কেন্দ্রে ‘মহড়া’ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ নাহিদের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতা-কর্মীদের ‘মহড়া’ ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাড্ডা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির কিছু কর্মী বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে বাড্ডার বেড়াইদ ও সাতারপুল এলাকার কয়েকটি কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে জানান, সেখানে তাদের সমর্থকদের ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় নাহিদ ইসলাম ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার অভিযোগ থাকলেও ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। “মানুষ ভোট দিতে চাইছেন। ভোটারদের আগ্রহ আছে। এটা ইতিবাচক দিক,”— মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিই যে কোনো অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেয়।

নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, ঢাকা-৮, নোয়াখালী-৬ ও কুড়িগ্রাম-২ আসনেও বড় ধরনের সমস্যার খবর পাচ্ছেন তারা। তার অভিযোগ, সেখানে তাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে “সুষ্ঠু নির্বাচন” শব্দবন্ধটি। তিনি বলেন, জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় বিষয় হলো নির্বাচন কতটা অবাধ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাড্ডা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ ছিল তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ। কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ভোটারদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেকেই। কয়েকজন ভোটার বলেন, তারা চান যেন ভোটের দিনটি নির্বিঘ্নে কাটে এবং ফলাফল নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিও রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পেলেও বড় কোনো সহিংসতা বা ভোটগ্রহণ স্থগিতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নির্বাচনের দিন স্বাভাবিক চিত্রের অংশ। তবে অভিযোগগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হলে ভোটারদের আস্থা বাড়ে। কারণ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল ভোটগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা কেন্দ্রে আসুন। ভোটারদের উপস্থিতিই সবকিছু নির্ধারণ করবে।” তার মতে, বেশি ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনকে শক্ত ভিত্তি দেয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেয়।

ঢাকা-১১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এই আসনে বিভিন্ন দলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নির্বাচনের দিন তাই স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটগ্রহণের পরিবেশের দিকে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে। কমিশন বলছে, যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ তারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলেছেন, তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় উত্তেজনার খবর শুনে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে অধিকাংশের প্রত্যাশা— নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং ফলাফল নিয়ে অস্থিরতা না তৈরি হয়।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, ভোটের দিনটি একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে, অন্যদিকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও চলছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। দিনশেষে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা—সব মিলিয়েই নির্ধারিত হবে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা। ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই— তাদের ভোট যেন সঠিকভাবে গণনা হয় এবং গণতান্ত্রিক রায় সম্মানিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com