প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভোটে অনিয়ম ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল স্থগিত এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগ জানাতে এসে তুলি সাংবাদিকদের বলেন তার আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তার ভাষ্যে পরিকল্পিতভাবে ফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে তার কর্মীদের মারধর করা হয়েছে এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোট পর্যবেক্ষণের সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সানজিদা ইসলাম তুলি আরও অভিযোগ করেন ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই কিছু কেন্দ্রে সিল দেওয়া ব্যালট পাওয়া গেছে। তার মতে এটি গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল এখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি এবং ভোট শেষ হওয়ার আগেই এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত না করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন ভবনের সামনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। অভিযোগগুলো স্বচ্ছভাবে যাচাই করা হলে সত্য উদঘাটিত হবে বলে তার বিশ্বাস। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন নির্বাচনোত্তর সময়ে পরাজিত প্রার্থীদের এমন অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল ঘিরে এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত গঠিত হয় কি না এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি আমলে নেওয়া হয় কি না তা সময়ই বলে দেবে।