ঋণপ্রবাহ জোরদারে নীতি সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০ বার
ডলারের বাজারে কৌশলগত উপস্থিতি: বেশি দামে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনায় নতুন করে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা, বাজারে তারল্য সঞ্চালন এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা আজ ১৬ জুলাই (বুধবার) থেকে কার্যকর হয়েছে।

নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, রেপো রেট বা নীতি সুদহার ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারবে, ফলে সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তারাও তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে করে ব্যক্তি খাত, শিল্প ও বাণিজ্যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সামগ্রিক তারল্য ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় ও অর্থনীতি চাঙা রাখার অংশ হিসেবে। মুদ্রানীতির সম্প্রসারণমূলক কৌশল গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার মূলত বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে চাইছে।

যদিও রেপো রেট কমানো হয়েছে, তবে নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা অর্থাৎ স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আভার নাইট রেপো সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এটি মূলত ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য সীমা নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ব্যাংকিং ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরও সস্তায় অর্থ ধার করার সুযোগ দেবে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে। এতে ঋণগ্রহীতারা কম সুদে ঋণ পেতে সক্ষম হবেন এবং শিল্প-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে। তবে এর সঙ্গে কিছু সতর্কতাও থাকছে। বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ এবং চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও থেকে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি একাধিক বক্তব্যে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমে এলে ধীরে ধীরে সুদের হার কমানো হবে। তবে এবার ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের আহ্বান বিবেচনায় তার আগেই নীতি সুদহার হ্রাসের সিদ্ধান্ত এলো।

গত জুন মাসে দেশে মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত প্রায় তিন বছরে সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে গত কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তথ্য বলছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিকূলতার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা আশানুরূপ না থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আস্থা জাগাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন প্রয়োজন সরকারের অন্যান্য অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যাতে করে শুধু ঋণের সুদ কমানো নয়, বরং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বাস্তবিক অর্থে অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত হয়। এই উদ্দেশ্যে সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতিময় করে তুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত