অলিম্পিকে ১২৮ বছর পর ব্যাট-বলের প্রত্যাবর্তন: লস অ্যাঞ্জেলসে ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ২৫ বার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যেখানে ফুটবল, অ্যাথলেটিকস কিংবা সাঁতারের মতো খেলা যুগের পর যুগ অলিম্পিকের গৌরবময় অংশ হয়ে আছে, সেখানে ক্রিকেটের অলিম্পিক মঞ্চ থেকে শতাব্দীরও বেশি সময়ের অনুপস্থিতি এক বিস্ময়ই বটে। তবে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১২৮ বছর পর আবারও অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনে ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে দেখা যাবে ব্যাট আর বলের লড়াই।

আয়োজক কমিটি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সূচি ও কাঠামো। লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পোনোমার ফেয়ারগ্রাউন্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সব ম্যাচ। ১২ জুলাই শুরু হয়ে ২৯ জুলাই পর্দা নামবে অলিম্পিক ক্রিকেটের এই নতুন অধ্যায়ের। পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই থাকবে ছয়টি করে দল। প্রতি ম্যাচেই থাকবে উত্তেজনা, কারণ বেশির ভাগ দিন মাঠে গড়াবে একাধিক ম্যাচ।

অবশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি কোন কোন দেশ এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে অংশ নেবে। তবে ক্রিকেটের গৌরবময় ঐতিহ্য ও বিপুল দর্শকসংখ্যার কথা মাথায় রেখে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বাজার। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) স্পোর্টস ডিরেক্টর কিট ম্যাককনেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইসিসির ভিশনই ছিল বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোকে অলিম্পিকের মূলধারায় নিয়ে আসা। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজার ও কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে যুক্ত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশ্বের সেরা দল আর তারকাদের দেখা যাবে অলিম্পিকের মঞ্চে—এটাই ক্রিকেটকে ফেরানোর মূল দর্শন।’

অলিম্পিকের ইতিহাসে ক্রিকেট একবারই স্থান পেয়েছিল—১৮৯৬ সালে আধুনিক অলিম্পিকের সূচনায় জায়গা পেলেও শেষ পর্যন্ত তা আয়োজন সম্ভব হয়নি। এরপর ১৯০০ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয় ক্রিকেট। তবে সেখানে অংশ নিয়েছিল মাত্র দুটি দল—গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স। সেবার একমাত্র ম্যাচে ফরাসিদের হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতে ব্রিটিশরা। তারপর কেটে গেছে এক শতাব্দীর বেশি, বদলে গেছে ক্রিকেটের রূপ ও বিস্তার, কিন্তু আর কোনো অলিম্পিকে দেখা মেলেনি ব্যাট-বলের।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিকেটের দ্রুত বর্ধনশীল বাজার ও বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় আনে এই খেলার অলিম্পিক প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের তুমুল জনপ্রিয়তা ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আর্থিক সাফল্য এ সিদ্ধান্তকে সহজ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

২০২৮ সালের গেমসে ক্রিকেটের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ভক্তদেরই নয়, বরং ক্রীড়া অর্থনীতির দিক থেকেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি ভক্ত আর বৈশ্বিক স্পন্সরদের নজর এবার অলিম্পিক ক্রিকেটের দিকে। আইসিসি থেকে শুরু করে জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডগুলোও ইতোমধ্যে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে, কীভাবে অলিম্পিকের জন্য যোগ্য দল গঠন ও সেরা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

দীর্ঘদিন পর ক্রিকেটের এই ফিরে আসা তাই শুধু খেলার মাঠেই নয়, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের বাণিজ্য, দর্শকসংস্কৃতি ও ক্রীড়া কূটনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা কেবল অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনবে না, তৈরি করবে নতুন স্বপ্নের মঞ্চও।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত