আজ উদ্বোধন হচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৪ বার
নারীপ্রধান পরিবারে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন একটি সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বনানী এলাকার টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। কড়াইল বস্তিসংলগ্ন এই মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

সোমবার রাজধানীর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সেখানে উপস্থিত মন্ত্রীরা জানান, দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এই নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এসব এলাকায় নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবারে উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই বা পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব নারীর ওপর বর্তায়, তাদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় পরিবার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থানের অবস্থা, আয়ের উৎস এবং গৃহস্থালি সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এমন পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে, যাদের জন্য নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করা কঠিন।

তিনি জানান, এই ভাতার অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমে যাবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই সহায়তা পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তারা সবাই এই উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীপ্রধান পরিবারগুলো সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীহারা, পরিত্যক্ত বা কর্মক্ষম পুরুষ সদস্যবিহীন পরিবারে নারীদেরই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত একটি আর্থিক সহায়তা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সামাজিক গবেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি শুধু দারিদ্র্য বিমোচনেই সহায়তা করে না, বরং নারীর সামাজিক অবস্থানও শক্তিশালী করে। যখন একটি পরিবারে আর্থিক সহায়তা সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছায়, তখন পরিবার পরিচালনায় তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়ে।

এদিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ বিভিন্ন বস্তি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই আশা করছেন, এই উদ্যোগ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির সময়ে মাসিক এই ভাতা দরিদ্র পরিবারের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। যদি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়, তাহলে আরও বেশি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

সামগ্রিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগকে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নতুন একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com