কোকা-কোলায় আখের চিনি ব্যবহারের ঘোষণা: ট্রাম্পের ‘স্বাস্থ্যবান আমেরিকা’ উদ্যোগের নতুন অধ্যায়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০ বার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন | প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া কোকা-কোলায় এবার ব্যবহৃত হবে আখের চিনি। কোমলপানীয়ের স্বাদে এই পরিবর্তন আনতে রাজি হয়েছে কোকা-কোলা কোম্পানি—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, উচ্চ ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ (এইচএফসিএস) বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক আখের চিনি ব্যবহারে কোকা-কোলার সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে।

বিবিসি, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বুধবার এক পোস্টে লেখেন, ‘আমি কোকা-কোলার সঙ্গে কথা বলেছি যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া কোকা-কোলায় আসল আখের চিনি ব্যবহার করে। তারা এতে রাজি হয়েছে।’

ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘খুব ভালো পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে বলেন, ‘দেখবেন, এটা আসলেই ভালো।’ তাঁর মতে, আমেরিকানদের স্বাস্থ্য, স্বাদ এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

যদিও কোকা-কোলার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রেসিপি পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি, তবে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা প্রেসিডেন্টের আগ্রহ ও উৎসাহের প্রশংসা করছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা শিগগিরই দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় নতুন ভাবনা
এইচএফসিএস বা উচ্চ ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ কোমলপানীয়ের প্রধান মিষ্টিকারক উপাদান। এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং সহজলভ্য হওয়ায় বহু বছর ধরে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এটি ব্যবহার করে আসছে। কারণ, মার্কিন সরকার ভুট্টা চাষে ভর্তুকি দেয় এবং বিদেশ থেকে আখের চিনি আমদানিতে থাকে উচ্চ শুল্ক।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ উপাদানটির স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে বহু গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র সরাসরি এইচএফসিএস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটি পরিহারে জনগণকে সচেতন করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাদের দুনিয়ায় ফিরে দেখা পুরনো আমেরিকা?
প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোকা-কোলার রেসিপি আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, মেক্সিকান কোকা-কোলায় আখের চিনি ব্যবহৃত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশেও বিশেষভাবে ‘Mexican Coke’ নামে বিক্রি হয় এবং এটি সেখানকার অনেক ভোক্তার কাছেই জনপ্রিয়।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রেও এবার মূলধারার কোকা-কোলার স্বাদে আসতে পারে বড় রকমের পরিবর্তন। যদিও এতে খরচ বাড়বে, তবে স্বাদ এবং স্বাস্থ্যবান পছন্দের দিক থেকে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগী হচ্ছেন, তেমনি মার্কিন খাদ্যশিল্পেও তৈরি করছেন এক নতুন আলোড়ন। এখন দেখার বিষয়, কোকা-কোলা আদৌ এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেয় কি না এবং তা মার্কিন জনজীবনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আনে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত