একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন | প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াল বিপর্যয় নেমে এসেছে। টানা ১৮ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টিতে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৩ জন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, প্রশাসন জনজীবন রক্ষায় একাধিক এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে। পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, মাত্র ১৮ ঘণ্টায় রাওয়ালপিন্ডি ও আশপাশের অঞ্চলে ২৪০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নাল্লা লেহ নামক একটি প্রধান জলাধারের পানি বিপজ্জনক মাত্রায়—প্রায় ২২ ফুট—বাড়ে। আশপাশের এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করে সাইরেন বাজানো হয় এবং লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। মেট অফিস থেকে সম্ভাব্য আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
ওয়াসা রাওয়ালপিন্ডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আশরাফ বলেন, ‘‘নাল্লা লেহ এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনসমূহে পানি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কাতারিয়ান এলাকায় পানি উচ্চতা ২২ ফুটে পৌঁছেছে এবং গোয়ালমন্ডি ব্রিজ এলাকায় তা আরও বেড়ে ২৩ ফুটে দাঁড়িয়েছে।’’
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ পরিস্থিতিকে ‘অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বৃষ্টির পরিমাণ ও গতিপ্রকৃতি অতীতে দেখা যায়নি। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘পুরো প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং জনগণকে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। সরকারি বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’’ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
বৃষ্টির দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাওয়ালপিন্ডি অঞ্চল, যেখানে একাধিক নিচু এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং দোকানপাট ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল, সেনা, পুলিশ ও জরুরি সেবার কর্মীরা। পানি নিষ্কাশনের জন্য ভারী যন্ত্রপাতিও কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়টিও উঠে আসছে বিভিন্ন বিশ্লেষণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনাও এ বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও দেশটির আবহাওয়া বিভাগ পুনরায় বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে, যা পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলতে পারে। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম যতক্ষণ না পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে, ততক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তানের জনগণ এই মুহূর্তে এক দুর্দান্ত পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক সহায়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা—এমন আহ্বান জানাচ্ছেন দেশটির পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন