প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের উদযাপনের সময় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাওয়া-আসার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। এটি তারেক রহমানের সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার নীতির মধ্যে নতুন এক নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময়ই প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা ব্যবহৃত হতো, কিন্তু এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের বিশেষ কর্মসূচিতে নিজস্ব গাড়িতে পতাকা বহন করা নজর কাড়ে।
বৃহস্পতিবার ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে দেশভক্ত বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতারা। এছাড়া উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও ছিল।
এ দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারেক রহমানের দলীয় প্রধান হিসেবে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরবর্তীতে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানকালীন সময়ে তারেক রহমানের নিজস্ব গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজের ক্রয়করা জ্বালানি ব্যবহার করে চলাফেরা করা নজর কাড়ে। তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে নিজস্ব গাড়িতে চলাফেরা করার নীতি প্রবর্তন করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত নীতি ও দক্ষ প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করান, প্রধানমন্ত্রী যখন নিজস্ব গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং সীমিত সংখ্যক গাড়ি ব্যবহার করেন, এটি শুধু যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়, বরং দায়িত্বশীল শাসন ও সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারেও প্রমাণ দেয়। এদিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা ১৩–১৪টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টি করা হয়েছে। এই উদ্যোগও সাধারণ মানুষের চোখে সরকারের দক্ষতা ও সাশ্রয়ী নীতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল সাভারের স্মৃতিসৌধেই সীমাবদ্ধ নয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডেও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা বহনকারী গাড়িতে উপস্থিত হন। এতে প্রমাণিত হলো, জাতীয় মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে যথাযোগ্য সম্মান জানাতে তারেক রহমান সচেষ্ট। এই উদ্যোগ সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা বহনের এই নজিরের মাধ্যমে দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন উদাহরণ দেখেছে, যেখানে ব্যক্তিগত নীতি, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় মর্যাদার সমন্বয় ঘটেছে। অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে। তিনি নিজস্ব গাড়িতে নিরাপদভাবে চলাফেরা করার পাশাপাশি জাতীয় পতাকার মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন, যা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।