প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা জনস্বাস্থ্য সংকট—যে কোনো পরিস্থিতিতে সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন জনমনে আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী রাখতে সংবাদমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। সংকটের সময় তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে গুজব, বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ কারণে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা, তথ্য যাচাই এবং পেশাগত নৈতিকতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা শুধু তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং অনেক সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। মাঠপর্যায়ে গিয়ে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া সংকট ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গণমাধ্যম গবেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকিও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাংবাদিকদের জন্য তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং) এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, দ্রুততার চেয়ে নির্ভুলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে সংকট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাংবাদিকরা সরকারের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গেও একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। সরকারের নীতি, ত্রাণ কার্যক্রম বা জরুরি সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে সাধারণ মানুষের সমস্যাও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সংকটকালীন সময়ে অতিরঞ্জিত বা যাচাইবিহীন সংবাদ পরিবেশন পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও প্রশিক্ষণ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রকে যেমন প্রসারিত করেছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও বাড়িয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। এখন অনেক ক্ষেত্রেই মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত জনমত গঠন করে। এ অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা শুধু তথ্য পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও পরোক্ষভাবে অবদান রাখেন। সঠিক তথ্য জনগণকে আতঙ্ক থেকে দূরে রাখতে এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় সংকটকালে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা এবং তথ্যনিষ্ঠতা একটি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট মহলের।