চট্টগ্রামে খাটের নিচে মিলল এক লাখ ইয়াবা: আনোয়ারা থেকে নারী আটক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর এলাকায় একটি বসতঘরে র‍্যাবের অভিযানে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ মাদক কারবারের চিত্র। খাটের নিচে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের এই বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনায় আটক করা হয়েছে একজন নারীকে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ১১টার দিকে র‍্যাব-৭ এর একটি দল অভিযান চালায় দক্ষিণ পরুয়াপাড়ার আনোয়ার মাঝির বাড়িতে। র‍্যাব জানায়, অভিযান শুরুর আগেই তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির কয়েকজন পুরুষ সদস্য পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা সম্ভব হয়।

র‍্যাবের সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানোর সময় বারান্দায় রাখা একটি খাটের নিচে সন্দেহজনক একটি নীল ও কালো রঙের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলতেই বেরিয়ে আসে একে একে ১০টি টেপ মোড়ানো আয়তাকার বস্তু। প্রথমে এগুলোকে ইট বলে মনে হলেও, টেপ খোলার পর দেখা যায় ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেট। পরে গণনায় দেখা যায়, এসব প্যাকেটে মোট এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী স্বীকার করেছেন যে, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে বিক্রি করত। মূলত ইয়াবার এই চালান গোপনে শহরে এনে চোরাচালানের মাধ্যমে বিতরণ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, “আটককৃত নারীকে আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

চট্টগ্রাম অঞ্চল, বিশেষত আনোয়ারা ও বাঁশখালী—এইসব উপকূলীয় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবার চালান নদীপথ ও সড়কপথে নানা কৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশের অভ্যন্তরে।

মাদকের বিরুদ্ধে চলমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বাড়ানো হলেও এই মরণনেশার আগ্রাসন পুরোপুরি রোধ করা এখনও সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে নারী ও পরিবারভিত্তিক মাদক ব্যবসার প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

আটক নারীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তার পরিবার ছাড়াও আরও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে র‍্যাব। এই সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম নগরীতে মাদক সরবরাহের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ইয়াবার বিস্তার ঘটাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আনোয়ারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, র‍্যাব থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, দরকার সচেতনতা, শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিরোধও—বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষও আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। তাঁরা চান, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে যেন এই ধরনের অপরাধ চিরতরে নির্মূল হয়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত