প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নতুন করে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার থেকে ক্রুজ ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের ডেস্ট্রয়ার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, যিনি রোববার জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
কেসিএনএ জানায়, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধজাহাজটির সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন প্রযুক্তি এবং নাবিকদের উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়ায় দক্ষতা যাচাই করা। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর দিকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় দুই ঘণ্টার কাছাকাছি সময় ধরে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে ইয়েলো সি এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। অন্যদিকে অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে সফলভাবে পরীক্ষাটি সম্পন্ন করে।
উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই মহড়ার মাধ্যমে শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতাই নয়, বরং যুদ্ধজাহাজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও দুটি নতুন ডেস্ট্রয়ারে স্থাপিত অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি কৌশলগত আক্রমণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
কিম জং উন আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা দেশের অপরিবর্তনীয় নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এ ধরনের পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও উত্তর কোরিয়া ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত একটি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় বলে দাবি করে। দেশটির মতে, এসব অস্ত্র শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটি ধারাবাহিকভাবে নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্র পরীক্ষা করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী নামপোতে উত্তর কোরিয়া তাদের তৃতীয় ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এতে দেশটির নৌবাহিনী আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নজর এখন উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই সামরিক কার্যক্রমের দিকে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন বিশ্ব সম্প্রদায় নজর রাখছে, এই সামরিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়।