জামায়াত নিয়ে কড়া মন্তব্যে ফজলুর রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদ-পরবর্তী রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। তার মন্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

কিশোরগঞ্জে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নিজের পূর্বের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সেখানে তিনি বলেন, জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন—যদি জামায়াতে ইসলামী কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তিনি বিষপান করবেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমার কি বিষ খেতে হয়েছে, না কি জামায়াতে ইসলামী পরাজিত হয়েছে?”—এই বাক্যটি উপস্থিত জনতার মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং তার বক্তব্যের মূল সুরকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।

তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি নিজেকে “হতভাগা বোকা মানুষ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেই সময় অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই আত্মসমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করলেও তার বক্তব্যের ভেতরে রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ছিল।

বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্যমতে, নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক আগেই এমন একটি কঠিন নির্বাচনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফজলুর রহমান দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যেতে পারে। তিনি বলেন, শিক্ষক, অধ্যাপক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যও এমন বিশ্বাস পোষণ করতেন। তার মতে, এই প্রচারণা ছিল সংগঠিত এবং পরিকল্পিত, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছিল।

তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাস্তবতা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। তার ভাষায়, “জীবনে কোনোদিন আর জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর অবস্থান যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল আত্মবিশ্বাস।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার ৬১ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলেও জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার এই বক্তব্য সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করলেও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন কিছু নয়। তবে সময়, প্রেক্ষাপট এবং বক্তার অবস্থান অনুযায়ী এর গুরুত্ব ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। একজন সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফজলুর রহমানের বক্তব্য তাই স্বাভাবিকভাবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় অবস্থান ও মতাদর্শগত বিভাজন দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যে আবেগ, ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মিশ্রণ প্রায়ই দেখা যায়। এই বক্তব্যও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক সংলাপকে কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।

সামগ্রিকভাবে, কিশোরগঞ্জের এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যটি শুধু একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এতে যেমন রয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছাপ, তেমনি রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত