রংপুর-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম-সিলেটে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার
রংপুর-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম-সিলেট বজ্রবৃষ্টি

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের চারটি অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। দেশের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিন-রাতের তাপমাত্রা সাধারণের তুলনায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে গরম এবং আর্দ্রতার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আর পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করায় দেশের চারটি অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ধরনের অস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়া মূলত বর্ধিতাংশের কারণে। এছাড়া বৃষ্টি না হলেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকায় দিনভর গরম অনুভূত হবে না।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে, যা ছিল ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বৃষ্টিপাতের হিসেবে সর্বোচ্চ পরিমাণ নথিভুক্ত হয়েছে কুমিল্লায়, যা ছিল ৪১ মিলিমিটার। এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও জলাধারে জলস্তরের কিছুটা বৃদ্ধি হতে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় নদী পাড়ের মানুষদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি সাধারণত ঝড়ো মৌসুমের আগে দেখা যায়। এটি মানুষকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেয়। কারণ বজ্রসহ বৃষ্টি কখনও কখনও ঝড়ের আকার নিতে পারে, যা কেবল শহরে নয়, গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওই চারটি জেলায় নদী পাড়ের মানুষ ও কৃষকরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

অন্যদিকে, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য অংশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে সেখানকার মানুষ সাধারণ জীবনযাপন করতে পারবে। তবে হঠাৎ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে দিনভর আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শারীরিক অসুবিধা অনুভব করতে পারেন, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বর্তমান অস্থায়ী বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভাবিত হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আগের বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অল্প বৃষ্টিতে কখনও কখনও শিলাবৃষ্টি হয়, যা ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কৃষকরা যেন এসব বিষয়ে সতর্ক থাকেন, সে জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন নদী বন্দরে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে নদী চলাচলরত জাহাজ এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকে নিরাপদে চলাচলের জন্য সতর্ক করা হবে।

অতএব, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আভাস পাওয়া গেলেও অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকবে। তবে দেশের মানুষকে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদী পাড়ের মানুষ, কৃষক, এবং জাহাজচালকরা যেন সতর্কতা অবলম্বন করেন। এছাড়া শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের স্বাস্থ্যরক্ষায় অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া জরুরি।

আগামী এক-দু’দিনে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টিপাত এবং বজ্র-বিদ্যুতের সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়া অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে হবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন অবস্থায় বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভাবিত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত