সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহার, স্বস্তি ফিরছে জ্বালানিতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৬ বার
সিলেটে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও ভোগান্তির পর অবশেষে সিলেট বিভাগের পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন মালিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গভীর রাতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক এবং ব্যবসায়ী মহল। ধর্মঘটের কারণে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কেটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট রাত প্রায় ৩টার দিকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ধর্মঘট ডেকেছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস এবং পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংগঠনের মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান। তিনি জানান, গভীর রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সব পাম্পে বার্তা পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে সকাল নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইতোমধ্যে মালিক ও শ্রমিকরা পাম্প চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এই ধর্মঘটের প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপক। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে যায় এবং যেসব পাম্প খোলা ছিল, সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যানবাহন চালকদের। বিশেষ করে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

ধর্মঘটের পাশাপাশি সড়কপথেও দেখা দেয় অচলাবস্থা। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক-এ ট্রাক ও ট্যাংকলরি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমা-সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এই অবরোধ শুরু হয়। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে, তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তার হস্তক্ষেপেই ধীরে ধীরে সড়ক থেকে যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

কমিশনার জানান, পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা নিয়ে মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এ কারণে কিছু ট্রাকচালক ও ট্যাংকলরি চালক সড়ক অবরোধে নামেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বোঝানো হয় এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে নেন। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। বিভাগীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সমস্যাগুলোর মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তারা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। তবুও বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই ধর্মঘটের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জরুরি কাজে বের হয়ে জ্বালানি না পেয়ে বিপাকে পড়েন। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনও সমস্যায় পড়ে বলে জানা গেছে। রাতের আঁধারে সড়কে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও মানবিকভাবে স্পর্শকাতর করে তোলে।

তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। পাম্পগুলো খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পরিবহন চালকরাও আবার রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শুধু একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, বরং এটি জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। তাই এমন সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, সিলেটে পাম্প মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে যে কারণগুলো থেকে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com