প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না পাওয়ার সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, বছরের পর বছর পড়াশোনা এবং পরিবারের আর্থিক বিনিয়োগের পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণকে বেকার থাকতে হচ্ছে। কেউ চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এতে একদিকে তরুণদের ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের মানবসম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাঁদের অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না।
আইএমএফের ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক অক্টোবর ২০২৬ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের প্রবণতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব, দক্ষতার সঙ্গে চাকরির চাহিদার অসামঞ্জস্য এবং অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আধিক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার প্রায় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এ হার বেড়ে প্রায় ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হচ্ছে না; বরং শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ শ্রমবাজারে প্রবেশের পরও কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি উচ্চশিক্ষা, কর্মমুখী দক্ষতা এবং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানকে সামনে নিয়ে এসেছে।
একজন তরুণের শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর সাধারণত পরিবারের প্রত্যাশা থাকে, তিনি একটি ভালো চাকরি পাবেন, নিজের আয় দিয়ে স্বাবলম্বী হবেন এবং পরিবারের দায়িত্ব পালনে ভূমিকা রাখবেন। অনেক পরিবার সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য দীর্ঘদিন সঞ্চয় করে, ঋণ নেয় কিংবা নিজেদের প্রয়োজন কমিয়ে শিক্ষার ব্যয় বহন করে। কিন্তু ডিগ্রি অর্জনের পরও যখন চাকরি পাওয়া যায় না, তখন সেই তরুণের ব্যক্তিগত হতাশার পাশাপাশি পরিবারের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন বেকার থাকলে আয় শুরু করতে দেরি হয়, বিয়ে বা পরিবার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যায় এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে। যদিও আইএমএফের প্রতিবেদন এসব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিসংখ্যান দেয়নি, বেকারত্বের এই চিত্র তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।
সমস্যাটি শুধু চাকরি না পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। শ্রমবাজার বিশ্লেষণে এ ধরনের পরিস্থিতিকে দক্ষতা বা যোগ্যতার তুলনায় নিম্নস্তরের কাজে নিয়োজিত থাকা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে কাজের অসামঞ্জস্য হিসেবে দেখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চশিক্ষা নিয়ে কেউ এমন কাজে যুক্ত হতে পারেন, যেখানে তাঁর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা পেশাগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনই নেই। আবার কোনো কর্মী যে ধরনের কাজের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন, সেই ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় তাঁকে বিকল্প পেশা বেছে নিতে হতে পারে। ফলে কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকলেও তাঁর অর্জিত দক্ষতার পুরো সুফল অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয় না।
এই পরিস্থিতি দেশের উৎপাদনশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সনদ অর্জন নয়; জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সমস্যা সমাধান, উদ্ভাবন এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞান যদি কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে ব্যবহার করা না যায়, তাহলে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—তিন পক্ষের বিনিয়োগের সুফল সীমিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীরা উপযুক্ত দায়িত্ব না পেলে তাঁদের পেশাগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এ অবস্থা নতুন ধারণা সৃষ্টি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির গতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
শিক্ষা ও চাকরির দক্ষতার মধ্যে ব্যবধানকে এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইএমএফের প্রতিবেদন। নিয়োগদাতারা অনেক ক্ষেত্রে এমন কর্মী চান, যাঁদের নির্দিষ্ট বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার যোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞান সব সময় চাকরির বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। ফলে ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অনেক তরুণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পিছিয়ে পড়েন। তাঁদের কেউ অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নেন, কেউ ইন্টার্নশিপ বা অভিজ্ঞতার সুযোগ খোঁজেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন চাকরির আবেদন করতে থাকেন।
এ ব্যবধান কমাতে উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। কোন খাতে কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন, আগামী কয়েক বছরে কোন পেশায় কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে এবং নতুন প্রযুক্তি কীভাবে কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে—এসব বিষয় শিক্ষাপরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে শিক্ষা থেকে চাকরিতে প্রবেশের পথ সহজ হতে পারে। তবে শুধু প্রশিক্ষণ বাড়ালেই হবে না; সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর মতো পর্যাপ্ত মানসম্মত চাকরিও সৃষ্টি করতে হবে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরতা। আইএমএফের প্রতিবেদনে কৃষিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে কর্মসংস্থানের আধিক্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব কাজে অনেক সময় নিয়মিত নিয়োগচুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য আয়, চাকরির নিরাপত্তা এবং পেশাগত উন্নতির সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে কোনো ব্যক্তি কর্মরত থাকলেও তাঁর জীবনযাত্রা আর্থিকভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে। মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন না থাকা, কাজের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সময় সুরক্ষার অভাব কর্মজীবী মানুষের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ কারণে বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের সম্পূর্ণ বাস্তবতা বোঝা সম্ভব নয়। কেউ কাজ করছেন কি না, তার পাশাপাশি কী ধরনের কাজ করছেন, কত আয় করছেন, কাজটি তাঁর যোগ্যতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কর্মসংস্থানে কতটা নিরাপত্তা রয়েছে—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা দরকার। উচ্চশিক্ষিত একজন তরুণ কোনো কাজ পেলেই তাঁর কর্মসংস্থানের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয়েছে বলা যায় না, যদি সেই কাজ তাঁর দক্ষতার ব্যবহার নিশ্চিত না করে কিংবা জীবনধারণের উপযোগী আয় না দেয়। তাই মানসম্মত কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের জনমিতিক পরিস্থিতি অর্থনীতির সামনে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। আইএমএফের প্রতিবেদনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাড়বে। কর্মক্ষম মানুষের এই বৃদ্ধি দেশের উৎপাদন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত চাকরি, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ।
কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে না। তাঁদের যথাযথ কাজে যুক্ত করা না গেলে বাড়তি জনসংখ্যা নতুন সুযোগের পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হলে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হবে এবং কর্মজীবন শুরু করতে অনেকের দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। এর ফলে তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পরও দীর্ঘদিন উৎপাদনশীল কাজের বাইরে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, আধুনিক সেবা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং রপ্তানিমুখী খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পরিবেশ উন্নত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিকাশে সহায়তা দেওয়া এবং উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক চাকরির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা গেলে তরুণদের নিজ নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়তে পারে। এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, দক্ষতা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার। আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশাগুলোতে নিয়োগের চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশাগুলোর চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, এআই-সম্পর্কিত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। এ প্রবণতা ইঙ্গিত করে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের ধরনও বদলে যাচ্ছে। তবে এ তথ্যকে সব দেশ, সব পেশা কিংবা সব প্রতিষ্ঠানে একই হারে চাকরি কমে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রযুক্তির প্রভাব নির্ভর করে কাজের ধরন, প্রতিষ্ঠান, খাত এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এ পরিবর্তন একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করছে। যেসব কাজের বড় অংশ নিয়মিত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বা পুনরাবৃত্তিমূলক দায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এআইয়ের ব্যবহার কাজের ধরন বদলে দিতে পারে। বিপরীতে, তথ্য বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং এআইনির্ভর সমাধান তৈরির মতো ক্ষেত্র নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি করতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো নয়, বরং সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ, তথ্য যাচাই এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়াতে হবে। প্রযুক্তি পরিবর্তিত হলেও এসব দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করা, প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তরুণদের আস্থা বাড়তে পারে। শুধু চাকরিপ্রার্থীদের আরও দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; অর্থনীতিতে যথেষ্ট মানসম্মত কাজ তৈরি করার দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বেকার থাকার তথ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য একটি সতর্কবার্তা। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা না গেলে জনমিতিক সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে। আবার পরিকল্পিত বিনিয়োগ, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সুযোগ বাড়ানো গেলে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের প্রবৃদ্ধির অন্যতম শক্তিতে পরিণত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি শুধু কতজন তরুণ ডিগ্রি অর্জন করলেন বা কতজন কোনো না কোনো কাজে যুক্ত হলেন, তা নয়; বরং তাঁরা কতটা উৎপাদনশীল, নিরাপদ ও যোগ্যতাসম্মত কর্মসংস্থান পেলেন, সেটিই বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত