আয়কর নথিতে অসঙ্গতি: টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন মোড়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাজ্যের এমপি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি টিউলিপের ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরের আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট নানা আর্থিক নথি জব্দ করেছে। এসব নথি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে গুলশানের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটের মালিকানা গোপন রাখাসহ একাধিক ক্ষেত্রে ‘মিথ্যা তথ্য’ উপস্থাপনের প্রমাণ।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ও নথি বিশ্লেষকদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিকের নামের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাক্ষর, সম্পত্তির গোপন মালিকানা এবং আইনগত নথির ত্রুটি—সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পদ সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অনিয়ম শুধু কর আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং তা মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের ইঙ্গিতও দেয় বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

দুদক জানিয়েছে, টিউলিপ ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক বছর তার আয়কর রিটার্নে ‘অ্যাডভান্স টুওয়ার্ডস ডেভেলপার্স’ শিরোনামে পাঁচ লাখ টাকা খরচের উল্লেখ করেছেন। অথচ একই সময়ে তিনি গুলশান এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিক ছিলেন, যার কোনো উল্লেখ নেই রিটার্নে। এসব ফ্ল্যাট সংক্রান্ত নথিতে দাবি করা হয়, টিউলিপ পরে সেটি হেবা দলিলের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু হেবার দলিলটি সঠিক নিয়মে নোটারাইজড হয়নি এবং এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষর নকল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট নোটারি পাবলিক গাজী সিরাজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে দুদকের একটি নথিতে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাটটির কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, এমনকি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এর কোনো নথিও নেই। অথচ টিউলিপ ফ্ল্যাটটির বিষয়ে কর নথিতে উল্লেখ না করে বরং ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘অগ্রিম টাকা’ প্রদান করেছেন বলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এই অগ্রিম প্রদানের তথ্য তদন্তে ‘কাল্পনিক’ বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।

এছাড়া আয়কর নথিতে টিউলিপের নাম একেক জায়গায় একেক রকম লেখা হয়েছে—কখনো ‘রিজওয়ানা সিদ্দিক’, কখনো ‘রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ’, আবার কোথাও শুধুই ‘টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক’। এসব নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরগুলো মিলছে না, এমনকি হাতের লেখাও ভিন্ন ভিন্ন, যা আরও বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

ব্রিটিশ সংসদের নথিতে টিউলিপের নাম ‘Tulip Siddiq’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে ব্যবহৃত তার স্বাক্ষরের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের মিল নেই বলেও তদন্তে দেখা গেছে। যদিও কর নথিতে তার বাবা শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও মা শেখ রেহানার নাম, জন্মতারিখ (১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮২) এবং ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে, তবুও স্বাক্ষর ও নামের অমিল বড় ধরনের প্রতারণার দিকেই ইঙ্গিত করে।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, “রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপের বিরুদ্ধে একটি চলমান দুর্নীতি মামলার অংশ হিসেবে আমরা প্রাসঙ্গিক সব নথিপত্র জব্দ করেছি। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই কর সংক্রান্ত সব নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনের অনুমোদনক্রমে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”

এ বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিক কিংবা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এর প্রভাব দৃশ্যমান।

সুশাসন, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে বিষয়টি এক গুরুতর নজির হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যেহেতু টিউলিপ বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত