প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সংসদে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কমিটি দখলকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি বিল পাসের প্রক্রিয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ একান্তভাবে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা হয়েছে এবং বিসিবি হয়ে গেছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অভিযোগের জবাবে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা তার ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে একতরফাভাবে বিসিবির একটি বডি তৈরি করা হয়েছিল। এই মন্তব্যের পর সংসদে স্পিকার তাকে বিলের বিষয়েই মনোযোগ দিতে বলেন।
এখনও বিসিবি প্রসঙ্গে কথা চালিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া করি নাই। এতদিন শুনতাম, মায়ের দোয়া পরিবহন আছে। আজ মাননীয় সদস্যের কল্যাণে জানলাম বাপের দোয়া কমিটিও আছে।’ সালাহউদ্দিন আহমদ আরও প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কারা নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তিনি বলেন, জনগণ জানে কার নেতৃত্বে এবং কীভাবে দেশের অর্থনীতি নৈরাজ্যের মুখে পড়েছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সেই নৈরাজ্য দূরীকরণের চেষ্টা করছে এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
এ ঘটনায় সংসদে তর্ক উভয়পক্ষের সমালোচনার মধ্যে পড়ে। হাসনাত আব্দুল্লাহ বিসিবি কমিটির ‘অবৈধ’ দখল এবং প্রভাব বিস্তার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা ও সমতার জন্য হুমকি স্বরূপ। তর্কের প্রেক্ষাপটে স্পিকার সংসদে আলোচনা শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং উভয়পক্ষকে মূল প্রস্তাবিত বিলের বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন।
সংসদে এই বাগযুদ্ধ কেবল ক্রীড়া প্রশাসন এবং কমিটির দখলের সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি রাজনৈতিক প্রভাব, সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিসিবি কমিটি নিয়ে এই বিতর্কে উভয়পক্ষের রাজনৈতিক কূটনীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দখল ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে সংসদে তর্ক-প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় বিষয়টি জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের এই তর্ক-উত্তাপ ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিসিবির কমিটি, গুরুত্বপূর্ণ পদ ও প্রতিষ্ঠান দখল সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বচ্ছ ও নৈতিকভাবে পরিচালিত না হলে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি, দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও উঠেছে, যা জনগণ এবং ক্রীড়া প্রণালির জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।