স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৪৪৩২ টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ বার
স্বর্ণের দাম কমেছে আজ

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। টানা ওঠানামার পর এবার স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে, যা বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয় এবং একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম দেশজুড়ে সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামে ওঠানামা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্থানীয় বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণের চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামেও সমন্বয় আনা হয়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ টাকা।

এর আগে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গিয়েছিল। বুধবারই ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল স্বর্ণের দাম। সেই বৃদ্ধির পরপরই আবার দাম কমায় বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও অনেকেই মনে করছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের দামে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে একদিন দাম বাড়লে পরের দিন কমে যাওয়া এখন স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

ক্রেতাদের মধ্যে এই দামের পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দাম কমায় স্বর্ণ কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, আবার অনেকে বলছেন ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বাজারে আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় স্বর্ণের দাম সাধারণ মানুষের বাজেট পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বর্ণ শুধু অলঙ্কার নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত। তাই আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যার ফলে দামে ওঠানামা আরও তীব্র হয়। বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর বাজারে এই প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট সংগ্রহ করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এ নিয়ম সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না এলে দেশের স্বর্ণবাজারেও এই ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, স্বর্ণের দামের এই বড় পতন দেশের বাজারে যেমন স্বস্তির বার্তা দিয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ মূল্য পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বাজারে এখনই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত