সর্বশেষ :

৫ দাবিতে জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে সিএমও অবরুদ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার
৫ দাবিতে জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে সিএমও অবরুদ্ধ

প্রকাশ:  ২৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নেতারা প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা (সিএমও) ড. শামসুর রহমানকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মেডিক্যাল সেন্টারের নানা সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে এ কর্মসূচি শুরু হয়। জাকসুর নেতারা প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার কক্ষের বাইরে তালা লাগিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ঘটনার পর মেডিক্যাল সেন্টারের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও জরুরি চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসাইন মুবারক সাংবাদিকদের বলেন, মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঁচটি প্রধান দাবি রয়েছে। এর মধ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ, মেডিক্যাল সেন্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্তত ১০টি নতুন কক্ষ নির্মাণ, অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন, দুটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

জাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বিশাল শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর তুলনায় বর্তমান মেডিক্যাল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে অনেক সময় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া সম্ভব হয় না। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেককেই বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। তাঁদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা মোটেই যথেষ্ট নয়।

হুসাইন মুবারক আরও জানান, প্রশাসন যদি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না করে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর আশ্বাস না এলে পুরো মেডিক্যাল সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।

এদিকে প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা ড. শামসুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, মেডিক্যাল সেন্টারের অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বৃহৎ আবাসিক প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা মেডিক্যাল সেন্টারের সেবার মান উন্নয়নের দাবি বারবার তুলেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। ফলে এবারের আন্দোলন শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষোভ নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রশাসনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য সংস্কার কার্যক্রম—সবকিছুর দিকেই নজর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং শিক্ষার্থীদের দাবির কতটা বাস্তবায়ন হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত