প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা অক্ষয় কুমারকে নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার শৈশব ও স্কুলজীবনের এক অজানা ও চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর সাফল্যের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন, পড়াশোনার সময় তিনি একেবারেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন না। বরং কিন্ডারগার্টেন থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনবার ফেল করেছিলেন তিনি।
বর্তমানে নিজের নতুন সিনেমা ‘ভূত বাংলা’র প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অক্ষয় কুমার। সেই প্রচারণার ফাঁকেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি শৈশবের এই স্মৃতির কথা তুলে ধরেন, যা শুনে ভক্তরা বিস্মিত হয়েছেন। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, আজকের সফল সুপারস্টার একসময় পড়াশোনায় এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
অক্ষয় কুমার জানান, তার স্কুলজীবনে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে তিনি একই ক্লাসে পড়াশোনা করতেন। সেই বন্ধুর সঙ্গেই তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে দুষ্টুমি, খেলাধুলা আর ঘোরাঘুরিতে। পড়াশোনার প্রতি মনোযোগের অভাবই তাদের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। মজার ছলে তিনি জানান, তারা দুজন মিলে সাইকেল নিয়ে পুরো শহর ঘুরে বেড়াতেন, আর স্কুলের নিয়ম-শৃঙ্খলার চেয়ে বাইরের স্বাধীন জীবনই তাদের বেশি টানত।
তিনি আরও বলেন, তার সেই বন্ধু অনেক সময় রসিকতা করে বলতেন, অক্ষয়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর কারণেই নাকি তিনিও পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারেননি। এই ধরনের স্মৃতিগুলো এখন তাদের জীবনে হাস্যরসের অংশ হয়ে গেছে।
অক্ষয়ের শৈশবের এই গল্প শুধু ব্যর্থতার নয়, বরং এক সংগ্রামী পথচলারও ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তী জীবনে তিনি নিজের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বলিউডে জায়গা করে নেন এবং হয়ে ওঠেন অন্যতম সফল ও ব্যস্ত অভিনেতাদের একজন। তাই তার এই শৈশবের ব্যর্থতার গল্প ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণারও উৎস হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘ভূত বাংলা’ নিয়েও এখন চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। শুরুতে ছবিটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ এপ্রিল, তবে পরে তা পরিবর্তন করে ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়। সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মতে, একই সময়ে অন্য বড় বাজেটের ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা এড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বক্স অফিস পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময় পরিবর্তন করা হলে দুই ছবির ব্যবসাই তুলনামূলকভাবে ভালো হতে পারে। এ বিষয়ে সহ-প্রযোজক একতা কাপুরও মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে কখনো কখনো সময় পরিবর্তন করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
‘ভূত বাংলা’ ছবিতে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব, টাবু এবং ওয়ামিকা গাব্বি। কমেডি ও রহস্যধর্মী এই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারের এই ধরনের ব্যক্তিগত গল্প তার জনপ্রিয়তাকে আরও মানবিক করে তোলে। একজন সাধারণ ছাত্র থেকে বিশ্বখ্যাত অভিনেতা হয়ে ওঠার এই যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি বার্তা দেয় যে, প্রাথমিক ব্যর্থতা কখনোই শেষ কথা নয়।
ভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই তার শৈশবের গল্পকে হাস্যরসের সঙ্গে দেখলেও, অধিকাংশই এটিকে জীবনের সংগ্রামের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
অক্ষয় কুমার বরাবরই নিজের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা খোলামেলা ভাবে শেয়ার করেন, যা তাকে অন্যান্য তারকাদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তার এই স্বভাবই ভক্তদের সঙ্গে একটি গভীর সংযোগ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, স্কুলজীবনের ব্যর্থতা থেকে শুরু করে বলিউডের শীর্ষ তারকা হয়ে ওঠার অক্ষয়ের যাত্রা আবারও আলোচনায় এসেছে। আর তার নতুন সিনেমা ঘিরে আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।