নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, মাছ-মুরগি-তেলের দাম বাড়তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ বার
মাছ মুরগি সবজি তেলসহ অনেক পণ্যের দাম বাড়তি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে মাছ, মুরগি, সবজি, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে না বাড়ায় দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও ও টাউন হল এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে সোনালি মুরগির কেজি ২৩০–২৬০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩৮০–৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে রুই মাছের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আগে ৩০০–৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় আকারের রুই মাছের দাম ৪০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

শুধু মাছ ও মুরগি নয়, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ির দামও বেড়েছে। বাজারে মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায় কেজি দরে। চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছের দামও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে এই দাম বাড়তি অবস্থায় রয়েছে।

মুরগির বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সোনালি মুরগির দাম। গত এক মাসে কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা এবং এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দেড়শ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাচ্চা মুরগি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় অনেক খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

তবে ক্রেতাদের অনেকে এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে রাজি নন। তাদের অভিযোগ, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারছেন না।

শাকসবজির বাজারেও গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে দাম বেড়েছে। চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি ও ঢ্যাঁড়সসহ বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমি উৎপাদনের কারণে শুরুর দিকে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি থাকে, তবে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

ভোজ্যতেল ও চিনির বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ গত কয়েক মাস ধরে কম থাকায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি এক কেজি চিনি এখন ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় তাদের সংসার খরচ বেড়ে গেছে। আগারগাঁও তালতলা বাজারে কথা হয় একজন ভোক্তার সঙ্গে, যিনি জানান, আগে যে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৯৪৫ টাকায় কিনতেন, এখন তা কিনতে হচ্ছে ৯৫৫ টাকায়। তার মতে, মাছ-মুরগির দামও বেড়ে যাওয়ায় মাসিক বাজেটে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে নিত্যপণ্যের দাম একসঙ্গে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পুরো সরবরাহ চেইনে পড়ছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে অনেক পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের স্বার্থে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যাদের আয়ের তুলনায় ব্যয় দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে খরচ কমাতে প্রয়োজনীয় খাবারেও কাটছাঁট করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত