প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ পূর্বাচলে জমি পাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাকে কোনো সরকারি প্লট বা জমি দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক “মুজিব” চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর থেকেই আরিফিন শুভকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে পূর্বাচলের ১০ কাঠার একটি প্লট পাওয়ার গুঞ্জন। সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়, মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে অভিনয়ের বিনিময়ে তিনি এই সুবিধা পেয়েছেন। তবে অভিনেতা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, তিনি কোনো জমির মালিক নন এবং এমন কোনো রেজিস্ট্রেশন বা হস্তান্তর প্রক্রিয়াও হয়নি। তার ভাষায়, তিনি কেবল একটি আবেদন করেছিলেন, যা আরও অনেক শিল্পী করেছিলেন। সেই আবেদন ছিল ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চিন্তা থেকে, কিন্তু সেটি কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন বা বরাদ্দে রূপ নেয়নি।
“মুজিব” সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রতীকী ১ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। তার মতে, এটি ছিল আবেগের জায়গা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি এই কাজ করেছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে ভুল ব্যাখ্যা ও বিতর্কের জন্ম দেয় বলে তিনি মনে করেন।
সাক্ষাৎকারে আরিফিন শুভ তার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সাল তার জীবনের অন্যতম কঠিন বছর ছিল, যখন তিনি তার মাকে হারান এবং একই সময়ে তার বৈবাহিক জীবনেরও সমাপ্তি ঘটে। এসব ঘটনা তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে এক ধরনের নেতিবাচক প্রচারের শিকার হন। তার মতে, “মুজিব” সিনেমায় অভিনয়ের কারণেই তাকে অযথা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা হয়েছে। তবে তিনি নিজেকে সবসময় একজন শিল্পী হিসেবেই দেখেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে নয়।
অভিনেতা তার মায়ের সংগ্রামী জীবনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, তার মা সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়েও দীর্ঘদিন সীমিত আয়ে সংসার চালিয়েছেন এবং সন্তানদের বড় করেছেন। এই অভিজ্ঞতাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, শারীরিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও মানসিক সমস্যাকে এখনো অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলা করা হয়, যা সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেতা জানান, তিনি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও কাজ করছেন এবং নতুন প্রকল্প হিসেবে “সিটি” নামের একটি কাজে যুক্ত হয়েছেন। মুম্বাইয়ের একটি কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে দীর্ঘ অডিশনের পর তিনি এই কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান।
ঢাকায় ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেতা স্মরণ করেন তার শুরুর দিকের সংগ্রামের কথাও। মাত্র কয়েকশ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসে অভিনয়ের জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করা তার জন্য সহজ ছিল না, তবে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সবশেষে তিনি জানান, ভবিষ্যতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করতে চান এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
সব মিলিয়ে পূর্বাচলের জমি নিয়ে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা দিকও আবার সামনে এসেছে।