কিম জং উনের নেতৃত্বে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ বার
কিম জং উনের নেতৃত্বে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ। দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাস্টার বোমা যুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে দেশটি। সোমবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Korean Central News Agency (KCNA) জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। রবিবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে এসব উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শুরু থেকেই এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।

KCNA প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা Kim Jong Un এবং তার কিশোরী কন্যা কালো জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কিম জং উন ক্লাস্টার বোমা ও ফ্র্যাগমেন্টেশন মাইনযুক্ত পাঁচটি উন্নত হোয়াসং-১১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা তত্ত্বাবধান করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু হিসেবে একটি দ্বীপে আঘাত হানে। সফল পরীক্ষার পর কিম জং উন বলেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও উন্নত আঘাতক্ষমতা অর্জনের জন্য এই ধরনের পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার এই মন্তব্য দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশলগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়া একই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। সেসময় ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডসহ হোয়াসং-১১ ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। দেশটির দাবি অনুযায়ী, এই অস্ত্র ৬.৫ থেকে ৭ হেক্টর এলাকাজুড়ে লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, উত্তর কোরিয়াকে তাদের অস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করতে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এই অস্ত্রের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে।

ক্লাস্টার বোমা এমন এক ধরনের অস্ত্র, যা উচ্চ উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট বোমা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ফলে এটি প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন এবং বেসামরিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্র নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে।

বর্তমানে ১২০টিরও বেশি দেশ ক্লাস্টার বোমা নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে উত্তর কোরিয়া, ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির অংশ নয়। ফলে এসব দেশ এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার বাইরে রয়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং কিম জং উনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এরপর থেকে দেশটি একাধিক নতুন প্রযুক্তির অস্ত্র উন্নয়নে কাজ করছে।

এর মধ্যে রয়েছে একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল। এসব প্রযুক্তি উন্নত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার এই অস্ত্র কর্মসূচি কেবল সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে এই ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক কূটনীতির বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে Xi Jinping ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে, যা উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্লাস্টার বোমা যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত