প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের স্বাস্থ্যখাতসহ সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া বিগত সরকারের ব্যর্থতার কারণে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রায় শূন্য অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো বিভিন্ন খাতে অনুভূত হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের প্রধান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিন্দা পার্কে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শিশুদের একটি বড় অংশ এখনো অপুষ্টিতে ভুগছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। শুধু ওষুধের মাধ্যমে নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যচর্চার উন্নয়ন ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বিশেষভাবে মায়েদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো মায়ের দুধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, অনেক মা বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণে শিশুকে ব্রেস্টফিডিং করাতে অনীহা দেখান, যা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর অনুরোধের প্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে এই উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান। এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় জনগণের জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া। তিনি জানান, টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে এবং দেশের প্রতিটি শিশুকে এই আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব কমিশন মেগান বলডিন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এম্মানিউলি এবরিউক্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়ে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে এই দুই মারাত্মক রোগের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অভিভাবকরা জানান, সরকারিভাবে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি তাদের জন্য বড় সহায়তা, যা শিশুদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সব মিলিয়ে এই টিকাদান ক্যাম্পেইন এবং স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোগগুলো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করা।