প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরের নীরব সড়ক মুহূর্তেই রূপ নেয় মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্যে, যেখানে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুইজন।
নিহতরা হলেন বাসের সুপারভাইজার আতিকুল ইসলাম (৪০) এবং বাসের হেলপার মজন মিয়া (৪৩)। তারা দুজনই গোপালপুর উপজেলার বাসিন্দা। আতিকুল ইসলাম মনতলা গ্রামের লাল মামুদের ছেলে এবং মজন মিয়া পাকুয়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের সন্তান বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গোপালপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বাসের দুই কর্মী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং পরে ঘাটাইল ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও বাসের বেশ কিছু যাত্রী আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারী যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাসের বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং এবং সড়কের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামিদপুর এলাকাটি সড়কের একটি ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। এখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে সড়ক কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিতভাবে কর্মজীবী ছিলেন এবং সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এই দুর্ঘটনা তাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ও উদ্বেগজনক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি বাড়ানো না গেলে এই পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে।
এই দুর্ঘটনাও সেই বাস্তবতারই আরেকটি করুণ উদাহরণ। ভোরের আলো ফোটার আগেই দুই পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। একটি মুহূর্তের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিয়েছে দুটি প্রাণ, রেখে গেছে শোক ও অনিশ্চয়তা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।