প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে তার জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত বিষয়টি নিয়ে একটি রুলও জারি করেছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নুসরাত তাবাসসুম নিজেই নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিট আবেদন করেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগত ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং ন্যায্য সুযোগ না দিয়েই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, মো. মনিরুজ্জামান এবং জাহিরুল ইসলাম মুসা। তারা যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং সামান্য সময়গত ভুলকে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, যদি না তাতে স্পষ্ট আইনগত বাধা থাকে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘনের কারণে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কমিশনের মতে, সময়সীমা নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এতে শিথিলতা দেখালে পুরো নির্বাচনী কাঠামোতে অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়। কমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, তিনি নির্ধারিত সময়সীমার ১৯ মিনিট পরে মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা বিধিমালার পরিপন্থী।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। এনসিপি নেত্রীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণে সামান্য বিলম্ব হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক আদেশের ফলে এখন নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো রুল নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলায় আদালতের নির্দেশ সাধারণত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করে। ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে এই ধরনের আইনি জটিলতা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও প্রশাসনিক নমনীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
নুসরাত তাবাসসুমের এই মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে থাকলেও, হাইকোর্টের নির্দেশের ফলে তার প্রার্থিতার পথে আপাতত একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন এখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।