প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকায় শিগগিরই বাজার পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে তিনি জ্বালানি সরবরাহ, সীমান্ত পরিস্থিতি, জনস্বাস্থ্য এবং দেশের নিরাপত্তা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সরবরাহ অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও দীর্ঘ সারি বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। এতে বোঝা যায়, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি এই উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত আমদানি ও মজুত ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী, সীমান্তে হত্যার ঘটনা আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে। তবে সরকার এই সংখ্যা আরও শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এজন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে হামের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রবাহ নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে ভুল তথ্য বা অপতথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে যৌক্তিক সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হলেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, কারণ জনমত গঠনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যম সত্য ও যাচাই করা তথ্য প্রকাশে আরও বেশি মনোযোগী হবে।
দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে নেই—এমন দাবি সঠিক নয়। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। সরকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, অতীতে রাজনৈতিকভাবে জঙ্গি ইস্যুকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে, আবার কখনও সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার প্রবণতাও দেখা গেছে। তবে বাস্তবতা হলো, নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে আছে।
সরকারের এই ব্রিফিংয়ে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি, সীমান্ত, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়। কর্মকর্তারা জানান, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সব মিলিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, মজুত পর্যাপ্ত এবং ভবিষ্যতে কোনো সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।