আন্তর্জাতিক হরমুজ জলপথে ইরানের দাবি মানবে না যুক্তরাষ্ট্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক কোনো জলপথের নিয়ন্ত্রণ কোনো একক দেশ নির্ধারণ করতে পারে না এবং এ ধরনের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো কোনো দেশের একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হতে পারে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথে স্বাধীন চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

মার্কো রুবিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে তারা নির্ধারণ করতে চাইবে কে ওই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে এবং কী শর্তে ব্যবহার করবে। তার ভাষায়, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে কোনো সমঝোতা হলে তারা হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এর অর্থ হলো, ব্যবহারকারীদের ইরানের অনুমতি নিতে হবে এবং তাদের শর্ত মানতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এটি আন্তর্জাতিক জলপথের ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এখানে কোনো ধরনের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে একটি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পদক্ষেপকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে। তবে এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে না।

মার্কো রুবিও বলেন, কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দেওয়ার শর্ত হিসেবে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তার মতে, এটি মুক্ত চলাচলের নীতির পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক, যাতে কোনো দেশ এককভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। হরমুজ প্রণালি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল পরিবহন এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন। কিন্তু সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো পরিস্থিতিকে আরও কঠোর ও অনিশ্চিত করে তুলছে।

এর আগে বিভিন্ন সময় এই অঞ্চলে নৌযান চলাচল নিয়ে উত্তেজনা দেখা গেছে। কখনো জাহাজ আটকে দেওয়া, কখনো সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক জলপথে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তা কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উভয় দিক থেকেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই নতুন বাকযুদ্ধ শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে মার্কো রুবিওর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও জোরালো করেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত