প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বড় অঙ্কের নোট লেনদেনে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নগদ অর্থের লেনদেন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে পশু ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য বাণিজ্যিক লেনদেনের সময় বড় অঙ্কের নোটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই সময়কে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বড় অঙ্কের নোট যেমন এক হাজার, পাঁচশ, দুইশ এবং একশ টাকার নোট লেনদেনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এসব নোট গ্রহণ বা প্রদান করার আগে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, রঙ পরিবর্তনশীল কালি এবং নোটের বিশেষ ছাপার ধরন, যা সহজে অনুকরণ করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাল নোট শনাক্তে সন্দেহ হলে নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকের শাখা বা পশুর হাটে স্থাপিত ব্যাংক বুথের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এসব বুথে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে নোট যাচাইয়ে সহায়তা করে থাকেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণকে ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে অপরিচিত বা সন্দেহজনক উৎস থেকে বড় অঙ্কের টাকা গ্রহণ বা প্রদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বলা হয়েছে, নিজে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও জাল নোট সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি, যাতে একটি সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আসল নোট চেনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদের সময় নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় জাল নোট চক্র সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পশুর হাটকেন্দ্রিক লেনদেনে এই ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এমন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের সতর্কতা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেন যত বাড়বে, ততই জাল নোটের ঝুঁকি কমে আসবে। তবে এখনো দেশের বড় একটি অংশ নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজনীয় রয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষও। অনেকেই বলছেন, ঈদের সময় দ্রুত লেনদেনের কারণে অনেক সময় যাচাইয়ের সুযোগ কম থাকে, ফলে জাল নোট হাতে চলে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সতর্কবার্তা আসন্ন ঈদ মৌসুমে নগদ লেনদেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমেই জাল নোট প্রতিরোধ করা সম্ভব।