বিমানটি চীনের সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চল আমুরের তিন্দা শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং নিখোঁজ হওয়ার সময় গন্তব্য থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই অবস্থান করছিল। তবে কেন ও কীভাবে বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তা এখনও রহস্যাবৃত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকর্মীরা সম্ভাব্য সকল উপায়ে সন্ধান অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ এক বিবৃতিতে জানান, নিখোঁজ বিমানে পাঁচ শিশুসহ মোট ৪৩ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় গোটা অঞ্চলে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গভর্নর আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করছি। ইতোমধ্যেই সামরিক, বেসামরিক এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী ইউনিটগুলোকে কার্যক্রমে লাগানো হয়েছে। বিমানটির সন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।”
রাশিয়ার জরুরি অবস্থা বিষয়ক মন্ত্রণালয় (EMERCOM) জানিয়েছে, দুর্গম বনভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে বিস্তৃত হওয়ায় অভিযান কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে, তবে তারা আশাবাদী দ্রুতই কোনো না কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। নিখোঁজ উড়োজাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করতে স্যাটেলাইট ইমেজ, রাডার ট্র্যাকিং এবং ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে, দেশটির রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘটনার সর্বশেষ আপডেট জানাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার প্রতি তীব্র মনোযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চীন, জাপান, এবং অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র রাশিয়াকে উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিমানটি যে এলাকায় নিখোঁজ হয়েছে, তা মূলত এক বিস্তীর্ণ ও দুর্গম প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা ঘেরা। অতীতে এই অঞ্চল দিয়ে যাওয়া বহু বিমানের সঙ্গে আবহাওয়ার দুর্যোগজনিত কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার নজির থাকলেও, এতো বড় সংখ্যক যাত্রী নিয়ে একটি বাণিজ্যিক বিমানের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অত্যন্ত দুর্লভ এবং উদ্বেগজনক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া পরিস্থিতি, অথবা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের প্রযুক্তিগত সমস্যা—এই তিনটি বিষয়কেই তদন্তের কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। তবে, জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা বা অন্য কোনো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আপাতত দেশজুড়ে অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর প্রার্থনার পালা চলছে। নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা বিমানবন্দর এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যালয়ে ভিড় করছেন, যেখানে তাঁরা নিরবধি অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ পাওয়ার আশায়।
এই মুহূর্তে রাশিয়া তথা পুরো বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে আমুর অঞ্চলের দিকে—যেখানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে এক অনিশ্চিত ও মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উদ্ধার অভিযান। সরকার, জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে হয়তো খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে সেই বহুপ্রতীক্ষিত উত্তর—কোথায় হারিয়ে গেল আকাশের বুকে উড়ে যাওয়া সেই পঞ্চাশ প্রাণ?
একটি বাংলাদেশ অনলাইন