প্রয়োজনে আবার ভাষা আন্দোলন হবে, মাতৃভাষাকে রক্ষা করতেই হবে’: হুঁশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ২৫ বার
প্রয়োজনে আবার ভাষা আন্দোলন হবে, মাতৃভাষাকে রক্ষা করতেই হবে’: হুঁশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

প্রকাশ: ২৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারো একবার বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে সরব হলেন—এবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, প্রয়োজনে আবার ভাষা আন্দোলন হবে, কিন্তু মাতৃভাষাকে রক্ষা করতেই হবে। বাংলা ভাষার ওপর চলমান ‘ভাষা-সন্ত্রাস’ মোকাবিলায় তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরাসরি বলেছেন, মাতৃভাষা অবহেলার শিকার হলে, আন্দোলন গড়ে তুলতে পিছপা হবেন না।

কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তমকুমারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে মমতা বলেন, মহানায়ক উত্তমকুমার শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলার আত্মপরিচয়ের একটি উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর স্মরণে আয়োজিত এই মঞ্চ থেকেই ভাষা রক্ষার লড়াইয়ে নামার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ভাষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি—এই তিনটি হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি শিশু যেমন ‘মা’ শব্দ দিয়ে তার কথা বলা শুরু করে, তেমনি আমরা সবাই মাতৃভাষার মধ্য দিয়েই প্রথম শিক্ষা গ্রহণ করি। অথচ আজ বাংলা ভাষা অবহেলার শিকার হচ্ছে। যে ভাষায় ৩০ কোটির বেশি মানুষ কথা বলেন, সেই ভাষায় কথা বলার কারণে আজ কাউকে কাউকে জেলে যেতে হচ্ছে, এমনকি দেশ ছাড়তেও হচ্ছে—এটি ভাষা-সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু নয়।”

এই বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণ। তিনি বলেন, “বাংলার উন্নয়ন যাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো যায়, তারা এখন ভয় পেয়ে বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনার রাজনীতি করছে। অথচ এই বাংলা দিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র—এমনকি ভারতের জাতীয় সংগীতও বাংলার মাটি থেকেই উঠে এসেছে। তাহলে আজ কেন এই ভাষার ওপর চেপে বসেছে নিপীড়ন?”

তিনি আরও বলেন, “বাংলা চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক—সব ক্ষেত্রেই যারা বাংলায় কাজ করছেন, তাদের সম্মান দিতে হবে। আমরা অন্য কোনো ভাষাকে ছোট করছি না, কিন্তু নিজেদের ভাষার প্রতি অবজ্ঞা তো আর মেনে নেওয়া যায় না। বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।”

মমতার বক্তৃতায় উঠে এসেছে ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক চেতনার পুনর্জাগরণ। তিনি ঘোষণা দেন, “যদি কেউ বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে নিপীড়নের শিকার হন, তাহলে আমরা দিল্লি গিয়ে লড়াই করবো। প্রয়োজনে আবার ভাষা আন্দোলন হবে। আমরা হার মানব না, মাতৃভাষাকে রক্ষা করেই ছাড়বো।”

বাংলার প্রতি এ ধরনের প্রত্যয়দীপ্ত অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মমতার ভাষায়, “বাংলার মাটি কোনো দুর্বৃত্তের হতে দেওয়া যাবে না। এই মাটি স্বাধীনতা দিয়েছে, নবজাগরণ ঘটিয়েছে—এই মাটির ভাষা কেউ নিঃশেষ করতে পারবে না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে সচেতন মহলে তাঁর এই অবস্থানকে অনেকেই যুগোপযোগী ও সাহসী বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে বলছেন, এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়—সার্বিকভাবে বাংলাভাষীদের আত্মপরিচয় রক্ষার প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও বটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত