ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ফেরার আহ্বান নরেন্দ্র মোদির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৫০ বার
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও মিতব্যয়ী জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৈশ্বিক চাপের প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে পড়ছে।

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

করোনা মহামারির সময়ের মতোই আবারও নাগরিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নাগরিকদেরও মিতব্যয়ী হতে হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে হবে।

রোববার ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ভারতের ওপরও পড়ছে।

তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন যে ভারতের নিজস্ব বড় জ্বালানি সম্পদ নেই। দেশটি পেট্রল, ডিজেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বেশিরভাগ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে পড়ে।

মোদি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো, ভোগ্যপণ্যে অপচয় রোধ এবং সাধারণ জীবনযাত্রায় সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু জ্বালানিই নয়, রান্নার তেল, স্বর্ণ, তামা, রাসায়নিক সারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ভারতকে আমদানি করতে হয়। এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ সীমিত করতে হবে এবং এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ও স্বর্ণ কেনা কমানোর আহ্বান জানান। কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।

মোদি তার বক্তব্যে করোনা মহামারির সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই সময় যেমন মানুষ ঘরে থেকে কাজ করে অর্থনীতিকে সচল রেখেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও তেমনই সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসে কাজের সুযোগ এখন অনেক বেশি, যা অর্থনৈতিক ব্যয় কমাতেও সাহায্য করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশ এখন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ে মিতব্যয়িতা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগকে অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি ও আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য এ ধরনের নীতিগত আহ্বান স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাপ কমাতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি উৎস ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান।

অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই আহ্বান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতের অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন করে মিতব্যয়িতা ও ঘরে বসে কাজের সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com