প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট ঘিরে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ও আলোচনা। কোন দল কোন গ্রুপে এগিয়ে থাকবে, কারা যাবে নকআউট পর্বে—এ নিয়ে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা।
আসন্ন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গ্রুপ পর্বের দলগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষণ সংস্থা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি কিছু উদীয়মান দলও গ্রুপ সেরার দৌড়ে চমক দেখাতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই আসরে প্রতিটি গ্রুপেই থাকবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বড় দলগুলোর পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট দলগুলোরও অঘটন ঘটানোর সুযোগ থাকবে, যা পুরো টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক দেশ মেক্সিকোকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘরের মাঠের সুবিধা এবং সমর্থকদের চাপ তাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র এই গ্রুপে লড়াই করলেও মেক্সিকো এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
‘বি’ গ্রুপে অভিজ্ঞতার দিক থেকে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে স্বাগতিক কানাডাও সমান লড়াইয়ের সম্ভাবনা রাখে। কাতার ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এই গ্রুপে চমক দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘সি’ গ্রুপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে পরিষ্কার ফেভারিট ধরা হচ্ছে। দলটি তাদের শক্তিশালী আক্রমণভাগ এবং অভিজ্ঞতার কারণে গ্রুপ সেরার দৌড়ে এগিয়ে। তবে মরক্কো গত বিশ্বকাপের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
‘ডি’ গ্রুপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্ক এই গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের মাঠের সুবিধা তাদের এগিয়ে রাখছে।
‘ই’ গ্রুপে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে। আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর এবং কুরাসাও লড়াই করলেও জার্মানির অভিজ্ঞতা ও শক্তি তাদের এগিয়ে রাখছে।
‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডসকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাপান, সুইডেন এবং তিউনিশিয়া এই গ্রুপে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে।
‘জি’ গ্রুপে আলোচিত দল ইরানকে নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। এই গ্রুপে বেলজিয়ামকে ফেভারিট ধরা হচ্ছে। মিশর এবং নিউজিল্যান্ডও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
‘এইচ’ গ্রুপে স্পেনকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী দল হিসেবে ধরা হচ্ছে। উরুগুয়ে তাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরব এই গ্রুপে চমক দেখাতে পারে।
‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখা হলেও নরওয়ে এবং সেনেগালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইরাকও অঘটন ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘জে’ গ্রুপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পরিষ্কার ফেভারিট। লিওনেল মেসির দল আবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবে। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান এই গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল কলম্বিয়ার সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে পড়তে পারে। কঙ্গো এবং উজবেকিস্তানও এই গ্রুপে খেলবে।
‘এল’ গ্রুপে ইংল্যান্ডকে গ্রুপ সেরার প্রধান দাবিদার ধরা হচ্ছে। ক্রোয়েশিয়া শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। ঘানা এবং পানামা এই গ্রুপে চমক দেখানোর চেষ্টা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেওয়ায় প্রতিটি গ্রুপেই থাকবে অপ্রত্যাশিত ফলাফলের সম্ভাবনা। বড় দলগুলোর পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান দলগুলোর পারফরম্যান্সও টুর্নামেন্টের রূপরেখা বদলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। কে কোন গ্রুপ থেকে এগিয়ে যাবে এবং কোন দল শেষ পর্যন্ত শিরোপা লড়াইয়ে থাকবে, তা জানতে এখন ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।