ইসরাইলের সামরিক নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় ইসরাইল

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দখলদার ইসরাইল আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক ও সামরিক সহায়তা ধীরে ধীরে কমিয়ে এমন পর্যায়ে নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে তা প্রায় শূন্যে পৌঁছায়।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি একের পর এক সংঘাত, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ২০১৮ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চুক্তি রয়েছে, যা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা খাতের একটি বড় অংশকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে নেতানিয়াহু মনে করেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই আর্থিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইসরাইল এখন এমন একটি অবস্থানে যেতে চায় যেখানে দেশটি নিজের সামরিক সক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারবে। পাশাপাশি তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য শুধু অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য গড়ার একটি বার্তাও বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি ইসরাইল এখন আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তারের দিকেও নজর দিচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনমতেও পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একটি জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে, যা আগে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নেতানিয়াহু সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রভাব এবং অপপ্রচারের কারণে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, তথ্যযুদ্ধের এই যুগে বাস্তবতা অনেক সময় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করছে।

ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যদি ইরানের বর্তমান সরকার দুর্বল হয় বা পরিবর্তনের মুখে পড়ে, তাহলে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলোর ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে রয়েছে, যেখানে এক দেশের পরিবর্তন অন্যদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয় ইরানের সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব কি না। উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, এটি সম্ভব, তবে নিশ্চিত নয়। তার এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর ইসরাইলি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গভীরভাবে যুক্ত। তবে একই সঙ্গে এটি ইসরাইলের কৌশলগত স্বনির্ভরতার দিকে একটি ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিতও বহন করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ইসরাইলের এই অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণা আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত