বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজার পতন

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়াকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে স্বর্ণের বাজারে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৯ ডলারে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার বাজারেও পতন দেখা যায়, যেখানে দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে। একদিনের ব্যবধানে এই পতনকে বিশ্লেষকরা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংঘাত এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোচ্ছে না, বরং তা আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

এই সংঘাতে ইরান, লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির আশায় যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদের পরিবর্তে ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার ফলে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সংঘাত এবং এর ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন এখন বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হবে।

অন্যদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের সুদের হার কমানোর পূর্বাভাসও পরিবর্তন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন ধারণা করছে, মার্কিন ফেড ২০২৬ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালের শুরুতে সুদের হার কমাতে পারে। এর আগে তারা চলতি বছরের মধ্যেই হার কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল। তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বালানি মূল্য মূল্যস্ফীতিকে স্থায়ী করে তুলতে পারে।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বাজারে নতুন ধারণা তৈরি হতে পারে।

এদিকে চীনেও স্বর্ণ উৎপাদনে কিছুটা পতন দেখা গেছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কিছু গলন কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন কমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দাম আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের ওঠানামার মধ্যে থাকতে পারে। টিম ওয়াটারারের মতে, স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে, কারণ বাজারে এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি হয়নি।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও সামান্য কমেছে, যা বৈশ্বিক ধাতু বাজারে সামগ্রিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা একসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারকে চাপের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত