সিলেট টেস্টের আগে ফিটনেস পরীক্ষায় বাবর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার
সিলেট টেস্টের আগে ফিটনেস পরীক্ষায় বাবর

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম এখন বাবর আজম। পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটারের হাঁটুর চোট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক অনুশীলনের খবর দলটির জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। প্রথম টেস্টে মাঠের বাইরে থাকতে হলেও সিলেট টেস্টে বাবরের ফেরার সম্ভাবনা এখন বেশ জোরালো বলেই মনে করছেন পাকিস্তান দলের কর্মকর্তারা। আর যদি সত্যিই তিনি দলে ফেরেন, তাহলে সিরিজের গতি-প্রকৃতি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ সফরের শুরু থেকেই বাবর আজমকে ঘিরে পাকিস্তান শিবিরে ছিল আলাদা উত্তেজনা। সদ্য শেষ হওয়া পাকিস্তান সুপার লিগে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। পেশাওয়ার জালমিকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ৫৮৮ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবেও শেষ করেন তিনি। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশে পা রাখেন বাবর। কিন্তু মিরপুর টেস্ট শুরুর আগমুহূর্তে হাঁটুর অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ায় তাকে দল থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।

পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল। কারণ সামনের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি মাথায় রেখে তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। যদিও দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাবর নিজে প্রথম টেস্ট খেলতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু মেডিকেল টিম এবং কোচিং স্টাফ শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় ব্যবস্থাপনার মতে, ইনজুরিটি গুরুতর ছিল না, তবে সামান্য অবহেলাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারত।

প্রথম টেস্টে বাবরের অনুপস্থিতি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে স্পষ্টভাবেই প্রভাব ফেলেছিল। তার অভিজ্ঞতা, ইনিংস গড়ার ক্ষমতা এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা পাকিস্তান দলের জন্য সবসময়ই বড় শক্তি। বিশেষ করে উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাবর বরাবরই কার্যকর ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ফলে তাকে ছাড়া পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিট কিছুটা অগোছালো দেখিয়েছে বলেই মনে করছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। অনুশীলনে নিয়মিত অংশ নেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করায় বাবরের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে। পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সময় ধরে নেটে ব্যাটিং করেছেন তিনি। পুরো সেশনজুড়ে ফিজিও এবং ট্রেনাররা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, অনুশীলনের সময় হাঁটুর কোনো অস্বস্তি দেখা যায়নি। এমনকি দ্রুত দৌড়ানো ও ফুটওয়ার্কের ক্ষেত্রেও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ১৬ মে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই ভেন্যু সাধারণত স্পিন সহায়ক হলেও শুরুতে পেসারদের জন্যও কিছু সুবিধা থাকে। এমন উইকেটে বাবরের মতো টেকনিক্যালি দক্ষ ব্যাটারের উপস্থিতি পাকিস্তানের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশি স্পিনারদের বিপক্ষে তার অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের ব্যাটিংকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে।

বাংলাদেশ দলও নিশ্চয়ই বাবরের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে বাবর শুধু পাকিস্তানের নয়, বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটারে পরিণত হয়েছেন। তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। ফলে সিলেট টেস্টে তাকে ঘিরে আলাদা কৌশল সাজাতে হতে পারে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটকে।

অন্যদিকে পাকিস্তান শিবিরে বাবরের ফেরা মানসিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে ড্রেসিংরুমে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও তিনি বড় অনুপ্রেরণা। মাঠে তার উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়করা।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ইনজুরি থেকে ফেরার পর বাবরের পারফরম্যান্স কেমন হয় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। কারণ দীর্ঘ বিরতির পর অনেক সময় ব্যাটারদের ছন্দ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগে। তবে বাবরের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং অনুশীলনের তীব্রতা দেখে অনেকে মনে করছেন, খুব দ্রুতই তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারবেন।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ সবসময়ই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। দুই দলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন মাঠে উত্তেজনা বাড়ায়, তেমনি দর্শকদের মধ্যেও সৃষ্টি করে বাড়তি আবেগ। এবার সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাবর আজমের ইনজুরি ও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের গল্প। প্রথম টেস্টে তাকে না পাওয়া পাকিস্তানের জন্য হতাশার হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তার ফেরার সম্ভাবনা এখন পুরো সিরিজের আবহই বদলে দিচ্ছে।

সিলেট টেস্টকে সামনে রেখে পাকিস্তান দল এখন অনেকটাই আশাবাদী। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের আগের দিন বাবরের ফিটনেস মূল্যায়নের পর। তবে এখন পর্যন্ত যা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং ভরসা আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অপেক্ষায় আছেন বাবরকে মাঠে দেখার জন্য। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় হলেও তার ব্যাটিং উপভোগ করেন উপমহাদেশের অসংখ্য ক্রিকেট সমর্থক। তাই সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত