বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, টানা ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১০৪ বার
অতি ভারি’ বৃষ্টির আভাস

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কয়েক দিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর দেশের আকাশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার (১১ মে) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে একটি লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় থাকা পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ দেশের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করছে। এই দুই সিস্টেমের সম্মিলিত প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ ১৬ মে পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়ে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি ভারি বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে সিলেট বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস বা পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও এ সময় বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারি বৃষ্টি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারি বৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রার বৃষ্টিপাত হলে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং কৃষি জমিতে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি সপ্তাহে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে কমবেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকবে। তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হবে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি এটি শক্তিশালী হয়, তবে উপকূলীয় অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই সময় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ৬৪ মিলিমিটার। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায়, ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনকে অনেকেই স্বস্তির হিসেবে দেখলেও কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আকস্মিক ভারি বৃষ্টি ফসল, সড়ক অবকাঠামো এবং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়া আগামী কয়েক দিন অস্থির থাকতে পারে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তর জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com