ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প-শি’র একমত সিদ্ধান্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে একই অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই নেতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় ইরান ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পায়। তার ভাষায়, “আমরা অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছি, যেগুলো অন্য কেউ হয়তো সমাধান করতে পারত না।” তিনি দাবি করেন, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে এমন একটি অবস্থানে আছে যেখানে উভয় দেশই বৃহৎ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখার প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, চীনের সঙ্গে তিনি “দারুণ বাণিজ্য চুক্তি” করেছেন, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করবে। তবে এই চুক্তির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং চীনা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠক নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি স্থায়ী হয়। বৈঠক শুরুর আগে শি জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হিসেবে কাজ করা, কারণ বিশ্বের স্থিতিশীলতা এ সম্পর্কের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা “চমৎকার” হয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর দুই নেতা বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন এবং পরবর্তীতে ঝংনানহাই নেতৃত্ব কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

সফরের অংশ হিসেবে ওই রাতেই শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন। সেখানে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান এবং বাণিজ্য ইস্যুতে প্রকাশ্যে মতপার্থক্য না দেখিয়ে উভয় দেশই আপাতত সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি দুই দেশকেই কৌশলগতভাবে কাছাকাছি আনতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই “সমঝোতার ভাষা” মূলত কূটনৈতিক অবস্থানকে সাময়িকভাবে নরম করার কৌশল হতে পারে। বাস্তবে ইরান, বাণিজ্য শুল্ক এবং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার মতো ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

সফরের শেষ দিনে শুক্রবার (১৫ মে) দুই নেতা আবারও বৈঠকে বসেন এবং পরে একসঙ্গে ঐতিহাসিক ঝংনানহাই কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেন ট্রাম্প। বেইজিং ত্যাগের সময় তাকে আনুষ্ঠানিক ও জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় জানানো হয় বলে জানা গেছে।

বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে দুই পরাশক্তির একই অবস্থান বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এই সমঝোতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং বাস্তব নীতিতে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা আগামী মাসগুলোতেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত