হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্প-শির নতুন সমঝোতা, বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্প-শির নতুন সমঝোতা, বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক বাজারে চলমান অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা কমাতে হরমুজ প্রণালির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এখন জরুরি। দুই দেশের শীর্ষ নেতাই মনে করেন, এই সংকীর্ণ জলপথটি কোনো ধরনের সংঘাত বা বাধার মুখে পড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর।

বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালিকে সচল রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে কোনো পক্ষকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগত জলপথ, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ইরান, সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশ এই পথ ব্যবহার করে থাকে। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা দেখা দিলে তার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে পড়ে।

ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা চলছে, তার প্রভাব সরাসরি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার ওপর পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা বা নিরাপত্তা সতর্কতা দেখা গেলেও ইরান দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই, বরং নির্দিষ্ট শর্তে নিরাপত্তা সমন্বয়ের মাধ্যমে পথটি উন্মুক্ত রাখা সম্ভব।

এদিকে চীনের অবস্থান এই সমঝোতায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের জন্য হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং যদি সত্যিই এই পথে সক্রিয় ভূমিকা রাখে, তাহলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

তবে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ সতর্ক করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে। তাই সাম্প্রতিক এই সমঝোতা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতি এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্দিষ্ট শর্তে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে পরিস্থিতি পুরোপুরি উত্তপ্ত নয় বরং নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আস্থা ফিরে আসবে। তবে যদি আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হয়, তাহলে এই জলপথ আবারও বৈশ্বিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির এই টানাপোড়েনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য সহযোগিতা নতুন একটি কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বাস্তব পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি ভৌগোলিক জলপথ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত