প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুনিয়ার সাময়িক প্রাপ্তি বা ব্যর্থতা যেন কোনোভাবেই ঈমান ও দ্বীনের পথে কাজের স্পৃহাকে দুর্বল না করে। তিনি বলেন, একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা অর্জন করা, আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জীবন পরিচালনা করতে হবে।
রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন বিশ্বাসীর জীবনে দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। তবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সাফল্য বা ব্যর্থতা যেন কখনোই মানুষের বিশ্বাস ও কাজের নীতিকে প্রভাবিত না করে। তিনি উপস্থিত নেত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রকৃত সফলতা সেই, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে অর্জিত হয়।
তিনি আরও বলেন, দ্বীনের পথে কাজ করা শুধুমাত্র একটি সংগঠনগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি আন্তরিকতা ও ধৈর্যের পরীক্ষা। আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই মানসিকতা ছাড়া কোনো আন্দোলন বা সংগঠন দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দক্ষতা ও নৈতিকতার স্বাক্ষর রাখাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আদর্শ, তাকওয়া, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আত্মগঠনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম বলেন, একজন মুমিনের জীবন শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র—চিন্তা, কাজ, ত্যাগ ও দায়িত্ব—আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়াই প্রকৃত দ্বীনদারীর পরিচয় বহন করে।
শিক্ষা শিবিরে মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাইকৃত নেতাকর্মীরা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত চলবে।
আয়োজকদের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের নারীদের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরাও আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রশিক্ষণ তাদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তাদের নারী অংশকে আরও সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সামাজিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষা শিবির শুধু একটি সাংগঠনিক আয়োজন নয়, বরং নারীদের আদর্শিক ও নেতৃত্বগত বিকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।