নড়াইলে বিশাল ষাঁড় ‘বাহুবলী’, দাম ১০ লাখ টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
বিশাল দেহের ‘বাহুবলী’, দাম কত?

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি খামারে দেখা মিলেছে এক বিশাল আকৃতির ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘বাহুবলী’। প্রায় ২৮ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আকার, যত্ন ও দেহের গঠন—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর কাছে এটি এখন কোরবানির পশুর মৌসুমে অন্যতম আকর্ষণ।

জানা গেছে, সাদা-কালো রঙের এই ষাঁড়টি বর্তমানে নড়াইলের খড়রিয়া মিনাপাড়ার ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ লালিত-পালিত হচ্ছে। খামারটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় খামারি রিপন মিয়া। তার দুই সন্তানের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে খামারের নাম রাখা হয়েছে।

খামার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা হাট থেকে মাত্র ২০০ কেজি ওজনের একটি বাছুর হিসেবে বাহুবলীকে কিনে আনা হয়। তখন থেকেই যত্ন, পুষ্টিকর খাদ্য এবং নিয়মিত পরিচর্যায় ধীরে ধীরে এটি বিশাল আকার ধারণ করে। বর্তমানে ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি, দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট।

খামার মালিক রিপন মিয়া জানান, বাহুবলী স্বভাবগতভাবে শান্ত হলেও অপরিচিত কাউকে দেখলে কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করে। এত বড় দেহের কারণে এটিকে পরিচালনা করাও সহজ নয়। প্রতিদিন গোয়ালঘর থেকে বাইরে আনতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের সহায়তা লাগে। এজন্য আগেই লোকজন প্রস্তুত রাখতে হয়।

তিনি বলেন, এই ষাঁড়টির পেছনে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ব্যয় হয়। বিশেষ খাবার, যত্ন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে এটিকে কোরবানির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

স্থানীয়ভাবে ‘বাহুবলী’ নামটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। খামারটিতে মোট ২২টি ষাঁড় রয়েছে, যার মধ্যে ২১টি শাহিওয়াল ও একটি ফ্রিজিয়ান-শাহিওয়াল জাতের। তবে সবগুলোর মধ্যে বাহুবলীই সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়।

খামারের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি গোয়ালঘরে গরুগুলো বিশ্রাম নিচ্ছে। গরমের কারণে ষাঁড়টিকে ঠান্ডা রাখতে পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত পানি দিয়ে গোসল করাচ্ছেন। খামার মালিকের স্ত্রী রোজিনা পারভিন জানান, গরমের সময় প্রাণীগুলোর বিশেষ যত্ন নিতে হয়, নাহলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

খামারটি ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকেই আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার ও যত্নের মাধ্যমে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে বলে জানান খামার মালিক। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বড় আকারের গরু এলাকায় খুবই বিরল।

বাহুবলীকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ শুধু দূর থেকে অবাক হয়ে দেখছেন বিশাল দেহের এই ষাঁড়টিকে। অনেকের কাছে এটি এখন কোরবানির মৌসুমের এক বিশেষ আকর্ষণ।

নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার এক দর্শনার্থী বলেন, জীবনে অনেক গরু দেখেছি, কিন্তু এত বড় গরু আগে কখনো দেখিনি। এটি সত্যিই অবাক করার মতো।

আরেক দর্শনার্থী মশিউর রহমান বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি শুধু এই গরুটি দেখতে। কাছ থেকে দেখে সত্যিই বিস্মিত হয়েছি।

স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও বাহুবলীকে জেলার সবচেয়ে বড় গরুগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করছেন, সঠিক যত্ন ও পরিচর্যার কারণে খামারি ন্যায্য মূল্য পাবেন। পাশাপাশি এ ধরনের খামার স্থানীয় পশুপালনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করছে।

খামার মালিক রিপন মিয়া আশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি চান স্থানীয় বাজারেই নির্ধারিত মূল্যে গরুটি বিক্রি করতে। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পরিচিত কেউ এটি কিনলে তিনি খুশি হবেন বলেও জানান।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দেশজুড়ে বড় আকারের গরুর চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘বাহুবলী’ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে নড়াইলের এই বিশাল ষাঁড়টি এখন শুধু একটি খামারের গর্ব নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি, পশুপালন সংস্কৃতি এবং কোরবানির বাজারের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত