প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সাধারণত শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বড় তারকাদের সিনেমা, টিজার-ট্রেলার, পোস্টার উন্মোচন আর সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণায় জমে ওঠে ঢালিউড। তবে এবার ঈদের সিনেমার বাজারে সেই চিরচেনা উত্তাপ এখনো পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আলোচনায় রয়েছে মূলত শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ এবং নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন-এর ‘রইদ’। ঠিক এমন সময় হঠাৎ করেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন আরিফিন শুভ।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন লুকের একটি ছবি পোস্ট করেন এই অভিনেতা। ছবিতে তাকে দেখা যায় বেশ রাগী, রহস্যময় ও শক্তিশালী এক চরিত্রের আবহে। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “সব কিছুর শেষে একজনই থাকে… মালিক!” আর এতেই শুরু হয়ে যায় নতুন জল্পনা। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রশ্ন— তাহলে কি অবশেষে ঈদেই মুক্তি পাচ্ছে বহু আলোচিত সিনেমা ‘মালিক’?
ঈদের সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। বিশেষ করে বড় তারকাদের ছবি হলে আসছে কিনা, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলতে থাকে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। অনেক বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমা মুক্তির ঘোষণা দেয়নি। ফলে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গাতেই যেন নতুন করে আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছেন আরিফিন শুভ।
নির্মাতা সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ সিনেমাটি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। অ্যাকশনধর্মী এই সিনেমায় আরিফিন শুভকে দেখা যাবে একেবারে ভিন্ন রূপে। দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমাটির শুটিং, প্রস্তুতি এবং চরিত্র নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তবে মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। ফলে সিনেমাটি নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে।
শুভর সাম্প্রতিক পোস্ট সেই রহস্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কারণ ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে হঠাৎ এমন পোস্টকে অনেকেই সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির তারিখ ঘোষণা হয়নি, তারপরও ভক্তদের অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, ‘মালিক’ হয়তো শেষ মুহূর্তে ঈদের দৌড়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। কেউ লিখেছেন, “এই ঈদে শুধু মালিক চাই।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “বাংলা সিনেমার নতুন বিস্ফোরণ হতে যাচ্ছে।” তবে অনেকেই সিনেমার প্রচারণা নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তির আগে সাধারণত টিজার, ট্রেলার, গান কিংবা পোস্টার প্রকাশ করা হয়। সেখানে ‘মালিক’ নিয়ে এখনো খুব বেশি তথ্য সামনে না আসায় দর্শকদের কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনি অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু বড় তারকা থাকলেই সিনেমা সফল হয় না। দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রচারণা। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগে একটি সিনেমার টিজার বা ট্রেলার অনেক সময় মুক্তির আগেই দর্শকদের প্রত্যাশা তৈরি করে দেয়। সেই জায়গায় ‘মালিক’ এখনো অনেকটাই রহস্যে ঘেরা।
তবে এই রহস্যই হয়তো সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকরা নতুন ধরনের গল্প, ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা এবং শক্তিশালী অ্যাকশন সিনেমার অপেক্ষায় আছেন। আরিফিন শুভ বরাবরই নিজের চরিত্র নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করতে পছন্দ করেন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মিশন এক্সট্রিম’ কিংবা ‘ব্ল্যাক ওয়ার’-এর মতো সিনেমায় তার অ্যাকশনধর্মী উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। ফলে ‘মালিক’ নিয়েও প্রত্যাশা অনেক বেশি।
এই সিনেমার আরেকটি বড় আকর্ষণ বিদ্যা সিনহা মিম। প্রায় চার বছর পর আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে শুভ ও মিমকে। এর আগে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সাপলুডু’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই সফলতার স্মৃতি এখনও অনেক দর্শকের মনে তাজা। ফলে ‘মালিক’-এ তাদের জুটিকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের সিনেমার বাজার এবার তুলনামূলক প্রতিযোগিতাহীন হতে পারে। কারণ এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমার নামই আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি ‘মালিক’ সত্যিই মুক্তি পায়, তাহলে দর্শকদের মধ্যে এটি বড় ধরনের সাড়া ফেলতে পারে। বিশেষ করে আরিফিন শুভর ভিন্ন লুক এবং সিনেমার অ্যাকশন ঘরানা তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সবকিছুর পরও এখনো স্পষ্ট নয় সিনেমাটির চূড়ান্ত পরিকল্পনা। পরিচালক সাইফ চন্দন কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে আরিফিন শুভর একটি পোস্টই যে নতুন করে ‘মালিক’কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, তা বলাই যায়।
ঈদের সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা বরাবরই অনেক বেশি। কারণ এই সময়টাতেই পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়ার সংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সেই প্রত্যাশার জায়গায় ‘মালিক’ নতুন চমক হয়ে আসে কিনা, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।