প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন, যা কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বরগুনা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষি খাতের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকই মূল চালিকাশক্তি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এক জায়গায় নিয়ে আসা হবে, যাতে তারা সহজে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। এতে উৎপাদন বাড়বে, কৃষক লাভবান হবেন এবং দেশ খাদ্যে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। কৃষক কার্ড সেই সমন্বিত উদ্যোগের অংশ, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কৃষিঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সহায়তা সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অতীতের দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের ইতিহাসে কৃষি উৎপাদনের ঘাটতির কারণে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তা যেন আর ফিরে না আসে। তিনি বলেন, কৃষিকে শক্তিশালী করতে পানি ব্যবস্থাপনা ও খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে অতীতের উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, কৃষকদের জন্য স্বল্প পরিমাণ কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি খাতকে টেকসই করতে আরও বড় পরিসরে পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাসসহ স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলায় কৃষকদের জন্য আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, নতুন জাতের ফসল, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। মেলায় কৃষি তথ্য সার্ভিসের সহযোগিতায় কৃষিবিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়, যা কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে আয়োজকরা জানান।
তিন দিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এবং আগামী ১৬ মে পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন হলে যদি তা স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি দেশের কৃষি ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে তারা একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে সঠিক তদারকি ও তথ্য হালনাগাদের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরকারি সুবিধা এক জায়গায় পাওয়া গেলে কৃষি খাতে তাদের ভোগান্তি কমবে। তবে অনেকেই চান, এই কার্ডের সুবিধা যেন সত্যিকার অর্থে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছায়।
সব মিলিয়ে কৃষক কার্ডকে কেন্দ্র করে সরকারের এই উদ্যোগ কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর।