প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর আদাবর এলাকায় জামিনে বেরিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আবু সাঈদ ওরফে “মাদক সাঈদ” ও তার গ্যাং। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং চাপাতি নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই চক্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তার তৎপরতায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা–র বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাঈদ গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং ব্যবহার করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১১ মে রাতে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার একটি বালুর মাঠে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসে অন্তত ৯ জনের একটি দল। তাদের হাতে ছিল চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র। তারা একটি রিকশা গ্যারেজে ঢুকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গ্যারেজে ভাঙচুর চালায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, একই দল পরে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট করে। এরপর একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় গিয়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং চাপাতি দিয়ে তালা কাটার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু চাঁদাবাজিই নয়, এই চক্র ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাই, দোকান লুটপাট এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা হামলার সঙ্গে জড়িত অন্তত আটজনকে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে নেতৃত্বে রয়েছে হেলমেট পরিহিত আবু সাঈদ, যাকে এলাকায় “মাদক সাঈদ” নামেও চেনা যায়। এছাড়া আরও কয়েকজনের মধ্যে আমির ওরফে “এলেক্স আমির”, “পিকআপ রুবেল”, সোহেল, লিটন, রফিকুল ও শাহিনের নাম উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই গ্যাংয়ের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে ছিল। তবে জামিনে বেরিয়ে এসে সাঈদ আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সংগঠিত অপরাধচক্র, যারা পরিকল্পিতভাবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঈদ গ্যাংয়ের ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা বা হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা। এতে এলাকার ছোট ব্যবসা ও কারখানাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠনের প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। আদাবর এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই অপরাধচক্রেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বিচার ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারা মনে করেন, পুনর্বাসন, নজরদারি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের গ্যাং আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাঈদ গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ না হলে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, আদাবর এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা সাঈদ গ্যাংয়ের তাণ্ডব রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের অভিযান ও নজরদারি জোরদার হলেও আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি।