ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধাপে ধাপে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউরোপে মোতায়েন থাকা সেনা ব্রিগেডের সংখ্যা চারটি থেকে কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক ভারসাম্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউরোপে বর্তমানে যে ব্রিগেড কমব্যাট টিম মোতায়েন রয়েছে, তার কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্রিগেডে প্রায় চার হাজার থেকে চার হাজার সাতশ জন সেনা সদস্য থাকে। এই বাহিনীগুলো ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি ব্রিগেড কমিয়ে দেওয়ায় ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ।

এদিকে পোল্যান্ডে নতুন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও কৌশলগত প্রয়োজন অনুযায়ী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপে সেনা উপস্থিতি নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কৌশল এবং ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর। অর্থাৎ, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক নির্ভরতা কমতে পারে।

এই পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের একটি নীতিগত অবস্থানও কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা চাইছে, ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্বে আরও বেশি স্বনির্ভর হোক।

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মত। তার সময়কাল থেকেই ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়টি আলোচনায় আসে। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে মে মাসের শুরুতে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে এমন সিদ্ধান্তগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি মূলত শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষার জন্য গড়ে উঠেছিল। সেই সময় থেকে বহু দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি এবং সামরিক ইউনিট অবস্থান করছে। তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই কৌশলেও রদবদল দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং নীতিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে সেনা কমানোর অর্থ হলো ভবিষ্যতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এতে করে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।

তারা আরও মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কেও কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ এই জোট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এটি জোটের দুর্বলতা নয় বরং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের একটি প্রক্রিয়া।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু দেশ এটিকে স্বাভাবিক কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখলেও, অন্যরা মনে করছে এটি নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাস করছে, অন্যদিকে ইউরোপ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানোর এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত