১ জুলাই থেকে বন্ধ হচ্ছে ম্যানুয়াল চালান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
১ জুলাই থেকে ম্যানুয়াল চালান বন্ধ

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এ তারিখ থেকে সব ধরনের সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি সম্পূর্ণভাবে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় জমা দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ম্যানুয়াল চালান পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সকল সরকারি অর্থ আদান-প্রদান বাধ্যতামূলকভাবে ‘এ-চালান’ পদ্ধতির মাধ্যমে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের সূচনা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের প্রচ্ছন্ন দায় ও আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব ইশরাত জাবিন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নগদ অর্থের সঠিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের সংবিধান অনুযায়ী সকল রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল বা সরকারি হিসাবে জমা হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ট্রেজারি বিধি অনুসারে এসব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে কিছু দপ্তরে পুরোনো ম্যানুয়াল কোড ব্যবহার করে অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকে পৃথক হিসাব খোলার প্রবণতাও দেখা গেছে।

অর্থ বিভাগ বলছে, এই ধরনের অনিয়মের কারণে সরকারের প্রকৃত নগদ অর্থের হিসাব নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কোথায় কত অর্থ জমা রয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। এতে অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা কমে যায় এবং পরিকল্পনা গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হয়।

এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে ছড়িয়ে থাকা সরকারি অর্থ সময়মতো ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায় সরকারকে প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয় বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়ে এবং আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও অধস্তন দপ্তরকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এ-চালান’ ব্যবস্থায় রাজস্ব গ্রহণ করতে হবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প অর্থ গ্রহণ বা জমা ব্যবস্থা চালু রাখা যাবে না। সব ধরনের পুরোনো পদ্ধতি অবিলম্বে বাতিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা অর্থ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে এসব অর্থ ‘এ-চালান’ পদ্ধতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হিসাবের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের স্বচ্ছতা আসবে। তারা বলছেন, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে নিরীক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা দুর্নীতি ও অনিয়ম কমাতে সহায়তা করবে।

তাদের মতে, সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। সরকার তখন সহজেই জানতে পারবে কোথায় কত অর্থ রয়েছে এবং তা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাজেট বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।

অন্যদিকে আর্থিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতাও বাড়বে। কারণ, অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমে আসতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে ছড়িয়ে থাকা অর্থ ব্যবহারের জটিলতার কারণে যে অতিরিক্ত সুদ ব্যয় হয়, তা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যেও এই পরিবর্তন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক দপ্তর ইতোমধ্যে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম মানিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং দেশের আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন ব্যবস্থা দেশের সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত