প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চাইবে না। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকার কারণেই দেশের জনগণ তাদের প্রতি আস্থা রাখে না। বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিত্যক্ত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। পরে তারা অনুষ্ঠানস্থলে গেলে উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাসে তাদের স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানস্থলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেন। পুষ্পবৃষ্টি ও লালগালিচা সংবর্ধনায় পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মের কথা বলে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করতে চায়। তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন এবং তারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, জনগণ তাদের ভূমিকা ভুলে যায়নি। তার মতে, দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলেই তারা সেইসব রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির নাম তারা জানেন কি না। এ সময় উপস্থিত জনতা উচ্চস্বরে জামায়াতে ইসলামীর নাম উচ্চারণ করেন। পরে তিনি বলেন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সত্য ও জনগণের আস্থার ভিত্তিতেই রাজনীতি করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দলের অবস্থান ও জোট রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারা মনে করছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান আবারও সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্যে এই বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক্তার আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান এবং ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ডক্টর মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঠাকুরগাঁও বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। সেখানে দলটির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি ও গণসংবর্ধনা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তার বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের এই গণসংবর্ধনা শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।