নতুন পে স্কেলে আসছে বড় সুবিধা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
নতুন পে স্কেলে আসছে বড় সুবিধা

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এই শ্রেণির কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। এই ধাপে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের বর্তমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী অর্থবছরে আবারও মূল বেতনের ওপর সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে মূল বেতন কাঠামো নতুন পে স্কেলের আওতায় সম্পূর্ণ সমন্বিত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, ঝুঁকি ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হবে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসব সুবিধা তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর মধ্যে বিদ্যমান ভাতা ও সুবিধা বহাল থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর করা হলে সরকারের ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব সক্ষমতা এবং বাজেট পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় বেতন সমন্বয় হয়নি।

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে একবারে বড় আকারে বেতন বৃদ্ধি করা সরকারের জন্য কঠিন। তাই পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পথ।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

তিনি মনে করেন, এতে একদিকে যেমন কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।

কমিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানোর বিষয়েও সুপারিশ থাকতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে নতুন পে স্কেলের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় শতভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই সুপারিশগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয় বাড়ার ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

সব মিলিয়ে নবম পে স্কেল ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছেন। এখন নজর বাজেট ঘোষণার দিকে, যেখানে এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপ দেখা যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত