প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে নতুন করে দাম কমানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই সমন্বয়ের ফলে বাজারে স্বর্ণের মূল্য আরও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। এই পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
এর আগে সর্বশেষ গত ১৫ মে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেবারও প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল এবং দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমায় বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় চাহিদার ওঠানামার কারণে দেশের স্বর্ণের বাজারে এমন ধারাবাহিক সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩০ বার কমেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, স্বর্ণের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দ্বিধায় পড়ছেন। বিশেষ করে বিয়ে-শাদির মৌসুমে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করায় ক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন।
তারা আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি, পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে স্থিতিশীল দাম বজায় রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক দাম কমার ফলে স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে তারা এটিও বলছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে দাম স্থিতিশীল না থাকলে সাধারণ মানুষের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বর্ণের বাজার মূলত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। তাই বৈশ্বিক অস্থিরতা থাকলে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ডলার-নির্ভর লেনদেন এবং আমদানি ব্যয়ের ওঠানামা স্বর্ণের দামে বড় প্রভাব ফেলে।
তাদের মতে, বর্তমানে স্বর্ণ বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও বাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
স্বর্ণ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছে, নীতিগত পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে ভবিষ্যতেও স্বর্ণের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে দেশের স্বর্ণ বাজারে আবারও দাম কমার এই সিদ্ধান্ত ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কোন দিকে যায় এবং তার প্রভাব দেশের বাজারে কতটা পড়ে তার ওপর।