প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর—ফিফা বিশ্বকাপ। এবার আসরটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, যার যৌথ আয়োজক হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা চরমে পৌঁছেছে। দল বেড়েছে, ম্যাচ বেড়েছে, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে তারকাদের ঘিরে আলোচনার মাত্রাও।
বিশ্ব ফুটবলের এই সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবারও চোখ থাকবে কয়েকজন মহাতারকার ওপর, যারা নিজেদের দেশকে শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও প্রতিভার মিশেলে এবারের বিশ্বকাপকে অনেকেই দেখছেন এক ভিন্ন মাত্রার প্রতিযোগিতা হিসেবে।
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আবারও বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপা অর্জন করেছিলেন। সেই সাফল্য তাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। তবুও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আশা, অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে। বয়স ৩৯ হলেও ক্লাব ফুটবলে তার পারফরম্যান্স এখনো উজ্জ্বল, ইন্টার মায়ামির হয়ে ধারাবাহিক গোল করে যাচ্ছেন তিনি।
পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সেও নিজের গোল করার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন অটুটভাবে। এটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও ফিটনেসের কারণে এখনো পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় ভরসা তিনি। সমর্থকদের প্রত্যাশা, এবার হয়তো শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের জাদু দেখাবেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে আবারও আলোচনায় নেইমার। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে তিনি আবারও বিশ্বকাপে ফিরছেন। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা তার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফিট থাকলে ম্যাচের মোড় একাই ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে, এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে আবারও বিশ্বমঞ্চে ঝড় তোলার অপেক্ষায়। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তার ফর্ম আরও ধারালো হয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি এবং ২০২২ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন এমবাপ্পে। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন, যা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে ভরসার নাম হ্যারি কেইন। হ্যারি কেইন জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে এবার তার লক্ষ্য বিশ্বকাপ শিরোপা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অসাধারণ ফর্মে থাকা এই স্ট্রাইকার ক্লাব ফুটবলে শিরোপা জিতেছেন, এবার দেশের হয়ে একই সাফল্য পেতে চান।
ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক খেলার জন্য তিনি প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। তার সঙ্গে রাফিনিয়া ও ম্যাথিউস কুনহা মিলিয়ে ব্রাজিল এবার শক্তিশালী আক্রমণভাগ গড়েছে, যারা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
অন্যদিকে ইউরোপের ফুটবলে আলোচনায় উঠে আসা কিশোর প্রতিভা লামিনে ইয়ামালও এবারের বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন। লামিনে ইয়ামাল মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইউরো জয়ে বড় ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন। বার্সেলোনার হয়ে বড় ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে স্পেন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এই তারকাদের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। অভিজ্ঞদের শেষ অধ্যায় এবং তরুণদের উত্থান—এই দুই বিপরীত প্রবাহ একসঙ্গে মিলেই এবারের আসরকে বিশেষ করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর, যেখানে প্রতিটি ম্যাচেই দেখা যেতে পারে নাটকীয়তা।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, বরং এক যুগের শেষ এবং নতুন যুগের শুরু হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে। মেসি-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের সম্ভাব্য শেষ অধ্যায় এবং এমবাপ্পে-ইয়ামালদের মতো নতুন প্রজন্মের উত্থান মিলিয়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা এখন আকাশচুম্বী।
সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবল এখন অপেক্ষায়—কে হাসবে শেষ হাসি, আর কে লিখবে নতুন ইতিহাস। আগামী কয়েক সপ্তাহে সেই উত্তর মিলবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।